ঢাকা: বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে বিসর্জন দিয়ে অন্ধ আচরণ শুরু করেছে বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
সদ্য ঘোষিত স্বাধীনতা পুরস্কার এবং অদম্য নারী পুরস্কারে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের কোনো প্রতিফলন বা বীরদের স্বীকৃতি না থাকায় একে ‘দলীয় অকৃতজ্ঞতা’ ও শত শত শহিদের রক্তের সঙ্গে ‘গাদ্দারি’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
রোববার দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে সিরডাপ মিলনায়তনে ‘গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরাম’ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার কয়েক বছর পর স্বৈরাচারী আচরণ শুরু করলেও বর্তমান সরকার শপথের দিন থেকেই সেই পথে হাঁটা শুরু করেছে। তারা দিল্লির আধিপত্যবাদকে মেনে নিয়ে এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে কোনো না কোনো ফর্মে পুনর্বাসন করতেই ক্ষমতায় এসেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত সরকারকে সঠিক আইনি মর্যাদা দেওয়া সম্ভব হয়নি; বরং সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের দোহাই দিয়ে এই অভ্যুত্থানকে গুরুত্বহীন করা হয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ বা ‘আদি পাপ’ হিসেবে গণ্য।
ব্যারিস্টার ফুয়াদের মতে, বর্তমান সরকার জুলাই সনদ, বিভিন্ন অধ্যাদেশ এবং গণভোটের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে কারণ তারা গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের লিগ্যাল স্ট্যাটাস নিশ্চিত করেনি।
তিনি অভিযোগ করেন, ৭২-এর সংবিধান পূজারীরা বারবার এই রেজিমের সাংবিধানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করলেও এর মধ্যে কোনো গণতান্ত্রিক ক্যারেক্টার ছিল না। বিএনপি সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, তারা আওয়ামী লীগ এবং দিল্লির প্রশ্নগুলো সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে ৭৫-পরবর্তী সময়ের মতো আবারও রাজনৈতিক চোরাবালিতে পা দিয়েছে।
সম্প্রতি ঘোষিত স্বাধীনতা পুরস্কার এবং অদম্য নারী পুরস্কারে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের কোনো প্রতিফলন বা বীরদের স্বীকৃতি না থাকায় একে ‘দলীয় অকৃতজ্ঞতা’ ও শত শত শহিদের রক্তের সঙ্গে ‘গাদ্দারি’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সচিবালয় থেকে যমুনা; সবখানে ক্ষমতার ছানি পড়েছে, এই ছানি দ্রুত অপারেশন করে চোখ পরিষ্কার না করলে দলটির ভবিষ্যৎ এবং বাংলাদেশ অন্ধত্বের অভিশাপে পড়বে, যেখান থেকে কেউ রেহাই পাবে না।