ঢাকা: আ ক ম জামাল উদ্দীন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক। সাম্প্রতিক কয়েক বছরে একাধিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডকে ঘিরে করে বারবার আলোচনায় এসেছেন তিনি। ক্রমাগত তার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি বিতর্ক ও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। সর্বশেষ গ্রেফতারের ঘটনায় জামাল উদ্দীনকে ঘিরে আলোচনা ফের নতুন করে সামনে এসেছে।
২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় আ ক ম জামাল উদ্দীন সমালোচনা ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করেন। সর্বশেষ ১১ মার্চ রাজধানীর গুলিস্তান স্টেডিয়াম এলাকার সামনে একটি পদযাত্রা থেকে তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি সেখানে ঢাকা-টুঙ্গিপাড়া ‘বঙ্গবন্ধু শান্তি পদযাত্রা ২০২৬’ নামক একটি কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন।
জানা গেছে, তিনি ১১ থেকে ১৬ মার্চ এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলেন। এ জন্য তিনি সরকারের বিভিন্ন দফতরে অনুমতির জন্য আবেদনও করেন। পাশাপাশি লিফলেট তৈরি করে প্রচার চালাচ্ছিলেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের হয়ে প্রচার চালানো ও শোভাযাত্রা আয়োজন প্রচলিত আইনে ফৌজদারি অপরাধ। সেজন্য তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে গতবছরের ডিসেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থি নীল দলের শিক্ষক হিসেবে পরিচিত জামাল উদ্দীন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হেনস্তার শিকার হন। আর গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ধানমন্ডি–৩২ নম্বরে অবস্থিত শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি এলাকায় ‘গণকান্না’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলার শিকার হন তিনি। পরে তাকে সেখান থেকে পুলিশ উদ্ধার করে।
তারও আগে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায় প্রত্যাখ্যান করে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী ‘১০০১ জন’ শিক্ষকের দেওয়া এক বিবৃতিতে সই করেন অধ্যাপক জামাল উদ্দীন। এ ঘটনাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়।
আর ২০২৪ সালে তো একাধিক ঘটনায় বিতর্কে জড়ান এই শিক্ষক। ওই বছরের ২৭ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে মুক্তিযোদ্ধা কোটার পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি পবিত্র কোরআনের সুরা আনফালের একটি ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।
একই বছর কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীদের ‘জামায়াত-শিবির’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিও তোলে। এ ছাড়া, আন্দোলনে যুক্ত থাকার অভিযোগে নিজের বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে ডিবেটিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করার ঘটনাও বিতর্কের জন্ম দেয়। ওই সময় কোটাবিরোধীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আনফ্রেন্ড’ করার ঘোষণাও দেন তিনি।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২২ মে শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে আয়োজিত এক মানববন্ধনে অধ্যাপক জামাল উদ্দীন জাতীয় সংসদের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। তিনি যুক্তি দেন, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দুই বছর সংসদ কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলেনি, তাই সংসদ ও সরকারের মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়ানো উচিত।
তার এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সমালোচনা শুরু হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি নিজামুল হক ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক জিনাত হুদার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এটি অধ্যাপক জামাল উদ্দীনের ব্যক্তিগত মতামত এবং শিক্ষক সমিতি তার এ বক্তব্য সমর্থন করে না।