ঢাকা: সংসদে শোকপ্রস্তাব আনা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, পোপ ফ্রান্সিস, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি। এ ছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরীসহ ৩১ জন সাবেক সংসদ সদস্যের প্রতি শোকপ্রস্তাব আনা হয়।
এ সময় বিরোধীদলীয় উপনেতা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, শোক প্রস্তাবটি একপেশে। তিনি মতিউর রহমান নিজামী, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, শরিফ ওসমান হাদিসহ বিভিন্ন নেতাদের প্রতি শোকপ্রস্তাব আনার দাবি জানান।
এর আগে, সংসদের বিরোধী দলের নেতা জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, আজকের সংসদ জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়ানো সংসদ।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্পিকারের কাছে সরকারি ও বিরোধী দল আলাদা হবে না। স্পিকারের কাছে সুবিচার পাবেন বলে প্রত্যাশা জানান বিরোধী দলের নেতা। অনেক তরুণ নেতা আছেন উল্লেখ করে নিজেকেও তরুণ বলেন বিরোধী দলের নেতা।
স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে জামায়াত আমির বলেন, আপনি একজন লড়াকু মুক্তিযোদ্ধা। আপনি পারবেন। স্পিকারের কাছ থেকে শুধু ইনসাফ আশা করেন বলেন শফিকুর রহমান। ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।
স্পিকারের বক্তব্যের পর শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আজকের এই সংসদ, বাংলাদেশের জনগণের সংসদ। দেশের মানুষ এই সংসদের দিকে প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে।
তিনি স্পিকারকে উদ্দেশ করে বলেন, এই সংসদকে সরকার প্রাণবন্ত করে তুলতে চায়। এ ক্ষেত্রে স্পিকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে সহযোগিতা করার প্রত্যয় জানান। তাদের অভিনন্দন জানান।
নামাজের বিরতির পর বেলা দেড়টার একটু পরেই সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী। আর এই সংসদ গণতন্ত্রের প্রতীক। তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন।
স্পিকার বলেন, বিভিন্ন সময় স্বৈরশাসকের আগমন ঘটেছে। বাংলাদেশের জনগণ লড়াই করেছে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট জনগণকে বিদায় দেওয়া হয়েছে। এই অভ্যুত্থানে যারা শহিদ হয়েছেন তাদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানান।
স্পিকার আরও বলেন, জনগণ সংসদের কার্যক্রম দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। সরকার ও বিরোধী দল উভয়পক্ষ জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করবে বলে আশা করেন স্পিকার। নিরপেক্ষতার জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলেন স্পিকার। তিনি বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ, এই হোক আমাদের মূলমন্ত্র।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর সংসদের অধিবেশনে আধঘন্টার জন্য বিরতি ছিল। এ সময় রাষ্ট্রপতি সংসদ ভবনে তার কার্যালয়ে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ান। পরে বেলা ১২ টা ৫৫ মিনিটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার আসনে বসেন। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে স্পিকারের মাইকে শব্দ হচ্ছিল না। এ কারণে শুরু করতে একটু দেরি হয়। প্রায় তিন মিনিট পরে একটি হ্যান্ড মাইকে বক্তব্য শুরু করেন স্পিকার।
এ সময় সংসদ সদস্যদের অনেকেই দাঁড়িয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান যে, তারা বক্তব্য শুনতে পাচ্ছেন না। তখন স্পিকার যান্ত্রিক গোলোযোগের কথা জানান এবং সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। এরমধ্যে জোহরের আজান শুরু হয়। জোহরের নামাজের জন্য ২০ মিনিট বিরতি দেন স্পিকার।