ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রপতির বক্তব্য চলাকালেই জামায়াত ও এনসিপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে।
পরে জামায়াতের আমির ওয়াকআউটের বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অপরাধী। তিনি সকল খুনির সহযোগী ছিলেন। একটি খুনের বিষয়েও তিনি ব্যবস্থা নেননি। অভিভাবক হিসেবেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। তার বক্তব্য আমরা এই মহান সংসদে শুনতে পারি না।’
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের এই কথা জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই রাষ্ট্রপতি তিনটা কারণে অপরাধী। প্রথম কারণ হচ্ছে, তিনি সমস্ত খুনির সহযোগী ছিলেন। তার আমলে যে খুনগুলো হয়েছে একটা খুনের বিরুদ্ধেও তিনি প্রতিবাদ করেননি। প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রের অভিভাবক। অভিভাবক হিসেবে তিনি রাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রতি জঘন্য অপরাধ করেছেন।’
‘দ্বিতীয় কারণ ছিল, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের ৫ তারিখ তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলেছিলেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং তিনি তা মঞ্জুর করেছেন। পরবর্তী পর্যায়ে দু’টি মিডিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি তা অস্বীকার করেছেন। নতুন গল্প সামনে নিয়ে এসেছেন। তিনি জাতির সামনে মিথ্যাবাদী হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছেন। মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট হিসেবে থাকা তার নৈতিক অধিকার থাকে না।’
‘তিন নম্বর অপরাধ, তিনি নিজের হাতে অর্ডিনেন্স সাইন করেছেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পরে ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখ নির্বাচন হবে। নির্বাচনে যারা নির্বাচিত হবেন তারা দু’টি ক্যাপাসিটিতে নির্বাচিত হবেন। তারা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে এবং একই সাথে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবেন। একই দিনে উভয় শপথ একই ব্যক্তি পড়াবেন। দুঃখের বিষয় সেই শপথ আমরা নিলেও সরকারি দল নেয়নি। তার (রাষ্ট্রপতি) প্রথম দায়িত্ব ছিল গেজেট প্রকাশের ২০দিনের ভিতরে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা।’
ডা. শফিক বলেন, ‘তিনি সেই অধিবেশন ডাকেননি। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ৭০ ভাগ মানুষ ভোট দিয়েছে। তিনি ৭০ভাগ জনগণ তথা দেশবাসীকে অপমান করেছেন। এখানেও তিনি অপরাধ করেছেন। এই তিন অপরাধের কারণে আমরা তার ভাষণ শুনতে চাইনি। আমরা সরকারি দল এবং স্পিকার মহোদয়কে অনুরোধ জানিয়েছিলাম। তারা আমাদের কথা গ্রাহ্য করেননি। আমরা সংক্ষুব্ধ হয়ে সংসদ থেকে বের হয়ে এসেছি। আগামীতে এই সংসদে কোনো অন্যায়কে আমরা বরদাশত করবো না। আমরা জনগণের স্বার্থের পক্ষে লড়াই করে যাব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দু’টি শপথ নিলেও সরকারি দল নেয়নি। রাষ্ট্রপতি সংস্কার পরিষদের সভা ডাকেননি। ৭০ ভাগ জনগণকে অপমান করা হয়েছে। প্রিয় দেশবাসী, আমরা আপনাদের অধিকারের পক্ষে আছি।’
পরবর্তী অধিবেশনে যোগ দেবেন কি না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমরা যোগ দেব। আমরা জনগণের পক্ষে কথা বলতে এখানে এসেছি। জনগণের অধিকারের জন্য লড়াই করতে এসেছি। এই সংসদ কারও একার নয়। এটা সাধারণ মানুষের সংসদ, আমরা তাদের প্রতিনিধি হিসেবে অবশ্যই যোগ দেব।’
ওয়াকআউটের পর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘হাজারো মানুষের রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদকে বিতাড়িত করেছি। ফ্যাসিস্ট দোসর রাষ্ট্রপতি বক্তব্য দিতে আসায় আমরা বক্তব্য দিতে চেয়েছিলাম, স্পিকার সুযোগ দেননি, ফলে আমরা ওয়াকআউট করেছি।’