ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের এক মাস পূর্ণ হয়েছে। এই স্বল্প সময়ে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নানা উদ্যোগ গ্রহণের চিত্র সামনে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮ দিনে ২৮টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসন থেকে শুরু করে অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য— সব ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলেছে।
সামাজিক সুরক্ষায় জোর: সরকারের প্রথম দিকের উদ্যোগগুলোর মধ্যে ছিল ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, যার মাধ্যমে হাজারও পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী চালু, ঈদ উপলক্ষে ত্রাণ ও উপহার বিতরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থার উদ্যোগ সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখছে।
কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে সহায়তা: কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড প্রদান এবং ক্ষুদ্র ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একইসঙ্গে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি সেচব্যবস্থা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রশাসনিক সংস্কারে নতুন দৃষ্টান্ত: প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরাতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কাজ চালু রাখা, ভিআইপি প্রটোকল কমানো এবং সংসদ সদস্যদের বিশেষ সুবিধা বাতিলের মতো সিদ্ধান্তগুলো নজর কাড়ছে। এতে সরকারি ব্যয় কমানো এবং জবাবদিহিতা বাড়ানোর চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অর্থনীতি ও বিনিয়োগে গতি: রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে বাজার নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা এবং বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণের উদ্যোগ অর্থনীতিতে গতি আনতে সহায়ক হতে পারে। একইসঙ্গে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিশ্চিত করা এবং বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালুর পরিকল্পনাও উল্লেখযোগ্য।
শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন: শিক্ষাক্ষেত্রে পুনর্ভর্তি ফি বাতিল, ভর্তি পদ্ধতিতে পরিবর্তন এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তা শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগ ও ক্রীড়া উন্নয়ন কর্মসূচিও মানবসম্পদ গঠনে ভূমিকা রাখবে।
স্বাস্থ্যসেবা ও জনকল্যাণ: ই-হেলথ কার্ড চালু এবং বিপুলসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ স্বাস্থ্যখাতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জাতীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযানও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা: চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং নারীর নিরাপত্তায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারী পরিচালিত গণপরিবহন চালুর পরিকল্পনা সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের একটি নতুন দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও অবকাঠামো উন্নয়ন: সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং বিমানবন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিমানবন্দর ও ট্রেনে বিনামূল্যে ইন্টারনেট চালুর উদ্যোগ আধুনিক সেবার দিকে অগ্রযাত্রার ইঙ্গিত দেয়।
সব মিলিয়ে, স্বল্প সময়ের মধ্যে নেওয়া এসব পদক্ষেপ সরকার পরিচালনায় সক্রিয়তা ও অঙ্গীকারের বার্তা দিচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগের বাস্তব প্রভাব কতটা দীর্ঘস্থায়ী ও কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সঠিক বাস্তবায়ন ও ধারাবাহিকতার ওপর।