ঢাকা: বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন যে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পূর্বের তুলনায় অনেক বেড়েছে।
তিনি বলেন, এখন অন্তত সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে কথা বলতে পারছে এবং নিজের মতামত প্রকাশের কারণে কাউকে গুম বা খুনের শিকার হতে হবে- এমন কোনো আশঙ্কা বা ভীতিকর পরিবেশ এখন আর নেই।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে রিজভী উল্লেখ করেন, তার দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ এখন একটি নতুন পথচলার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। যদিও তিনি স্বীকার করেন যে তারেক রহমানের দেখানো স্বপ্নের পূর্ণ বাস্তবায়নে কিছুটা সময় প্রয়োজন, তবুও দেশ ধীরে ধীরে সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
এই নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রাকে সফল ও টেকসই করতে তিনি সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার এবং সহযোগিতা করার উদাত্ত আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও অপপ্রচারকারীদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, যারা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কুৎসা রটনা করছে, তাদের এই হীন প্রচেষ্টা সফল হবে না বরং শেষ পর্যন্ত তাদের গায়েই ফ্যাসিবাদের তকমা লেগে যাবে।
রিজভী দাবি করেন, বর্তমান সরকার বা রাষ্ট্রব্যবস্থায় কেউ সমালোচনা করলেও তাকে আগের মতো রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে না। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ২৬ মার্চের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, এই দিনটি কেবল একটি ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়, বরং এটি বাংলাদেশের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বহু ত্যাগ ও লাখো মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা পুরো জাতির জন্য এক পরম গৌরবের বিষয়। এ প্রসঙ্গে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি দিশেহারা জাতিকে একটি নতুন পথ দেখিয়েছিলেন।
রিজভী আরও স্পষ্ট করেন যে, স্বাধীনতা কেবল একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ড অর্জনের নাম নয়, বরং এর মাধ্যমেই একটি জাতি তার আত্মমর্যাদা ও উন্নয়নের বহু পথ খুঁজে পায়। যারা অতীতে বাংলাদেশের এই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছে, তারা শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত ও পরাজিত হয়েছে। তিনি বিগত শাসন আমলের সমালোচনা করে বলেন, আগে মানুষের মৌলিক অধিকার অত্যন্ত সীমিত করে রাখা হয়েছিল এবং গুম-খুনের মাধ্যমে দেশে একটি স্থায়ী ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল।
সবশেষে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি ব্যক্তিগত জীবনে অপরিসীম ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং তার সেই সংগ্রামের ফলেই আজ মানুষ মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে পারছে।