ঢাকা: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ ১৮ বছরের ফ্যাসিস্ট নির্যাতনের ফলে দেশের রাষ্ট্রকাঠামো যখন চুরমার হয়ে গিয়েছিল এবং অর্থনীতি পুরোপুরি ভঙ্গুর হয়ে পড়েছিল, তখন জনগণের সমর্থনে একটি নির্বাচনের মাধ্যমে এমন একজন নেতা পাওয়া গেছে যার স্লোগান হচ্ছে ‘সবার আগে দেশ, গড়ব দেশ’। এই স্লোগানই এখন দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৮ বছরে দলের নেতা-কর্মীরা ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। প্রায় ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, ২০ হাজার তরুণ নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে এবং ইলিয়াস আলীসহ ১৭০০ নেতা-কর্মী গুম হয়েছেন। তবুও নেতা-কর্মীরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি এবং মাথা নত না করে লড়াই চালিয়ে গেছেন।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে কবি রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়’। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, এ দেশের মানুষ ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে রক্ত দিয়ে লড়াই করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর আবারও সেই অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে যারা একাত্তরে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল। তাই স্বাধীনতার শক্তিকে অক্ষুণ্ণ রাখতে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তারেক রহমান দেশে ফিরে কোনো প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার কথা না বলে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বলে দেশ গড়ার পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। নির্বাচনের পর পরই তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষি ঋণ মওকুফ এবং খাল খননের মতো উন্নয়নমূলক কাজে হাত দিয়েছেন। শহীদ জিয়া যেমন তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ থেকে দেশকে একটি সম্ভাবনাময় বাংলাদেশে পরিণত করেছিলেন, তারেক রহমানও আজ সেই পথ দেখাচ্ছেন।
মির্জা ফখরুল অত্যন্ত শ্রদ্ধাভরে স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করেন। তিনি অঙ্গীকার করেন যে, গত ৫০ বছর ধরে যারা গণতন্ত্র ও অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করেছেন, তাদের ত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না এবং প্রতিটি অন্যায়ের যোগ্য বিচার নিশ্চিত করা হবে। সবশেষে তিনি তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করে সন্তানদের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ ও বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর মতো বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।