Thursday 09 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বিএনপির বিচ্যুতিতে আমরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত: মামুনুল হক

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:০২

ঢাবিতে খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

ঢাকা: খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, বিএনপির বিচ্যুতিতে বিএনপি যতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমরা তারচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। বিএনপির ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বিএনপির চাইতে আমাদের বেশি সাফার করতে হয়। বিএনপি যখন ৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বুঝে না, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসমান থেকে পড়েছে এই জাতীয় কথাবার্তা বলত তখন আমরা দেখতেছিলাম বিএনপি পতনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বিএনপিকে সে বিষয়টা তেমন কষ্ট দেয়নি আমাদেরকে যেমন দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর উদ্যোগে ‘সংবিধান ও সংস্কার: নতুন বাংলাদেশ নাকি পুরোনো ফ্যাসিবাদ’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ডাকসু ভিপি সাদেক কায়েমের সভাপতিত্বে এই আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ২০০৬ সালে বিএনপি যখন কেএম হাসানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার করার জন্য সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম করতেছিল। নির্বাচন কমিশনে এম এ আজিজের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয় তাকে বাদ দিয়ে মাহফুজুর রহমান না কাকে বসায় তাকে পরিবর্তন করে আরেকজনকে দেয়। আবার বিএনপির নেতারা মিডিয়ায় এসে আন্দোলনকারীদের উপহাস করে। আর তাদের এই উপহাস গোটা দেশকে ক্ষিপ্ত করে তোলে।

শেষ পর্যন্ত বিএনপি ২০০৬ সালে কেএম হাসান আর এম‌এ আজিজ মার্কা নির্বাচন করে যে খাদে পড়ল, বিএনপির বড় বড় নেতারা তলে তলে আঁতাত করে তো পরবর্তী বিশ বছর খুব খারাপ ছিলেন না। জেল খাটলাম আমরা আর বিএনপির তৃণমূলের কর্মীরা। এখন বাংলাদেশ চব্বিশ পরবর্তী এই সময় আমার বাংলাদেশ যা বলছে বিএনপি তুমি চোখ তুলে তাকিয়ে দেখ‌ কান খাড়া করে শুনে রাখ, আগামীর দিনে তোমাদের ভুলে আমরা আর সাফার করব না বিকল্প পথ খুঁজে নিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, বিএনপির বড় একটি শক্তির জায়গা ছিল প্রবাসীরা। জুলাই বিপ্লবের অন্যতম অংশীজন প্রবাসীরা‌ এখন ৮০-৯০ পার্সেন্ট বিএনপির প্রতি প্রচণ্ডভাবে ক্ষুব্ধ। টোটাল জেনজি প্রজন্ম ৩৫ বছরের নিচে যাদের বয়স প্রায় সবাইই বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, গণভোটকে অসাংবিধানিক বলছেন এখন। জুলাই সনদ পাশ হ‌ওয়ার পরে ঐক্যমত্য কমিশনে জুলাই সনদকে আনচ্যালেঞ্জেবল একটা জায়গায় সংবিধানে স্থান দেওয়ার জন্য যখন আলোচনা চলছিল তখন তো সুস্পষ্টভাবেই সালাহউদ্দিন সাহেব গণভোটকে শুধু সমর্থন জানাননি বরং এই প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। সেই নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তখন তো মনে হয় নাই এটা আনকনস্ট্রিউশনাল! এখন এসে কেন মনে হলো?

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে মামুনুল হক বলেন, ২৮ অক্টোবর নয়া পল্টনে বিএনপির সমাবেশের আগেরদিন আমরা কারাগারে রোজা রেখে দোয়া করেছি। আমরা ভেবেছিলাম, ২৮ অক্টোবর ভালো কিছু দেখব। এরপর যখন মিডিয়ায় বিএনপির ভিরু কাপুরুষতার সর্বশেষ প্রদর্শনী দেখলাম তখন দুঃখে হৃদয় চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর