Saturday 09 May 2026
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

শিবিরের দুই নেতাকে গুলি: ৮ পুলিশের বিরুদ্ধে বিচার শুরু

স্টাফ করেসপন্ডেট
২০ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৪৭
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

ঢাকা: যশোরের চৌগাছায় গ্রেফতারের পর ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলির ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আসামিদের মধ্যে তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমানও রয়েছেন।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বে দুই সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

রায়ের আগে আসামিপক্ষের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ পড়ে শোনানো হয় এবং কাঠগড়ায় উপস্থিত তিন আসামির কাছে দোষ স্বীকারের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। এরপর আটজনের বিরুদ্ধেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আদালত আগামী ১ জুন মামলার সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।

এদিন সকালে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে তিন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান এবং কনস্টেবল জহরুল হক।

মামলার বাকি আসামিরা পলাতক। তাদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমান, চৌগাছা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল এবং এসআই মাজেদুল। পলাতকদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা আদালতে প্রতিনিধিত্ব করছেন।

এর আগে ১৬ এপ্রিল আসামিপক্ষ অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে শুনানি শেষ করে। ১২ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের আবেদন করে প্রসিকিউশন।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক রুহুল আমিনকে একটি মিথ্যা মামলায় আটক করে পুলিশ। আদালতে হাজির না করে তাদের টানা দুই দিন নির্যাতন করা হয়। পরে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ দেখিয়ে তাদের পায়ে গুলি করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গুলির ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অস্ত্র মামলা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেই মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হয়। গুরুতর সংক্রমণের কারণে শেষ পর্যন্ত দুই ভুক্তভোগীর পা কেটে ফেলতে হয়।