ঢাকা: সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনসহ গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। তারা জানিয়েছে, আগামী ১৬ মে রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের অন্য সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করবে জোটটি।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কারের পক্ষে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ রায় দিলেও সরকার জনগণের সেই রায়কে উপেক্ষা করছে। নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকার এখন সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ছলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছে।
১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশের সূচি বিষয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ১৬ মে রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ; ১৩ জুন চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমাবেশ; ২০ জুন খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ; ২৭ জুন ময়মনসিংহে বিভাগীয় সমাবেশ; ১১ জুলাই রংপুরে বিভাগীয় সমাবেশ; ১৮ জুলাই বরিশালে বিভাগীয় সমাবেশ এবং ২৫ জুলাই সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশ হবে।
তিনি বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহার কারণে মে মাসে কেবল একটি সমাবেশ রাখা হয়েছে। ঈদের ছুটির পর জুন মাস থেকে পুনরায় পুরোদমে আন্দোলন ও সমাবেশ শুরু হবে। বিভাগীয় এই সমাবেশগুলোতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সব জেলা ও মহানগরের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে।
হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, বিভাগীয় সমাবেশের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভার পরিকল্পনাও নিয়েছে ১১ দল। বিশেষ করে শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জনমত গঠন করা হবে। এছাড়া দেশের সাতটি বিভাগে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার চলমান থাকবে।
‘গণভোট অনুমোদিত জুলাই আদেশ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে বর্তমানে জোটের দুই সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি চলছে। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল রাজধানীতে এবং ২৫ এপ্রিল অন্যান্য মহানগরে গণমিছিল করেছে ১১ দল। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২ মে দেশের সব জেলা শহরে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনের আগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূইয়া, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমেদ, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।