ঢাকা: গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে ৭০ শতাংশ ভোটার জুলাই সনদে বিএনপির দেওয়া নোট অব ডিসেন্টকে (ভিন্নমত) খারিজ করে দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘শুধু জনগণ নয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেবও নিশ্চয়ই হ্যাঁ-তে ভোট দিয়েছেন, যেহেতু তিনি হ্যাঁ ভোট দিতে বলেছেন। আজকে সংসদে দাঁড়িয়ে নিজের ভোটের বিরুদ্ধে আপনি অবস্থান গ্রহণ করবেন? আপনার রায়কে আপনি অমান্য করবেন? এটা তো অন্তহীন প্রতারণা।
রোববার (৩ মে) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত এনসিপির জ্বালানি, অর্থনীতি, সংস্কার ও গণভোট বিষয়ক জাতীয় কনভেনশনের সমাপনী অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সরকারি দলের লোকেরা বলছে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে, বিরোধী দলের ওপর ভূত চেপেছে। জনগণ বুঝে ফেলেছে, ভূত বিরোধী দলের ওপর চাপেনি, সরকারের ঘাড়েই ভূত চেপেছে। আপনারা জনগণকে কনফিউজড করছেন।
সংসদে আপনারা বলছেন, জুলাই সনদের সব অক্ষরে অক্ষরে মানব; কিন্তু গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, সেই রায় অক্ষরে অক্ষরে মানব এ কথা কখনো বলেননি। ফলে গণভোট আর জুলাই সনদকে পার্থক্য করে তারা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
জনগণের পাঁচ কোটি ভোটকে বিএনপি খারিজ করে দিচ্ছে অভিযোগ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, এই অধিকার আপনাদের নেই। কারণ, সংসদ কখনো সার্বভৌম হয় না। জনগণের অভিপ্রায় হচ্ছে সর্বোচ্চ আইন। ডেলিগেটেড পাওয়ার নিয়ে আপনি সংসদে পাওয়ার এক্সারসাইজ করছেন; আর গণভোটে যেটা হয়েছে, সেটা ডেলিগেটেড পাওয়ার নয়, ভোটাররা ডাইরেক্ট পাওয়ার দিয়ে আপনার নোট অব ডিসেন্টকে খারিজ করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোর পথে আজ প্রধান অন্তরায় হয়ে পড়েছেন সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে যারা ক্ষমতায় বসেছেন তারা। একই দিনে একসঙ্গে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন হলো। সেই গণভোটের পক্ষে এখন যারা ক্ষমতাসীন, তারা বিলম্বে হলেও হ্যাঁ-তে ভোট দিতে বললেন। তারা ৪ মাস সময় পেয়েছেন জিতে চেয়ারে আসার আগ পর্যন্ত। এর মধ্যে এক দিনও বলেননি যে ১৩ নভেম্বরের রাষ্ট্রপতির আদেশ সংবিধান বহির্ভূত বা এটা রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার বহির্ভূত। ক্ষমতায় আসার পরে কেন বলা হচ্ছে? সংকট তৈরি করেছে বিএনপি সরকার, সরকারকেই এ সংকট নিরসন করতে হবে।’