Monday 08 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

গহরপুরীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য / এম এ মালিক এমপিকে ক্ষমা চাইতে হবে: খেলাফত মজলিস

স্পেশাল করেসপন্ডন্ট
৮ জুন ২০২৬ ১৯:৩৭ | আপডেট: ৮ জুন ২০২৬ ১৯:৩৮

আল্লামা গহরপুরী ও সিলেট-৩ আসনের বিএনপির এমপি এম এ মালেক। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড-বেফাকের সাবেক চেয়ারম্যান ও দেশের বরেণ্য বুজুর্গ আলেম আল্লামা নূরউদ্দীন আহমদ গহরপুরী (রহ.) সম্পর্কে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালেকের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (বিকেএম)।

সোমবার (৮ জুন) দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এক বিবৃতিতে বলেন, সিলেট তথা সমগ্র বাংলাদেশের গর্ব, বরেণ্য বুজুর্গ ও শাইখুল হাদিস আল্লামা নূরউদ্দীন আহমদ গহরপুরী (রহ.) এবং তাঁর স্মৃতিবিজড়িত গহরপুর অঞ্চল সম্পর্কে এম এ মালেকের ঔদ্ধত্যপূর্ণ, অশালীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, আল্লামা নূরুদ্দীন গহরপুরী (রাহ.) সমগ্র দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের শ্রদ্ধার পাত্র। তার সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য ও গহরপুর অঞ্চলের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং লাখো মানুষের হৃদয়কে আহত করেছে।

মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, সাম্প্রতিক এ বক্তব্যের পেছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সংকীর্ণ মানসিকতা কাজ করছে বলে জনমনে ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। বিগত নির্বাচনে আল্লামা গহরপুরী (রাহ.)-এর ছেলে ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু- এম এ মালিকের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জের ধরে একজন মরহুম আলেম ও তার স্মৃতিবিজড়িত জনপদকে নিয়ে কটাক্ষ করা কোনো সভ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, যিনি একসময় নিজেকে নির্যাতনের শিকার বলে দাবি করেছেন, আজ তিনিই ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও ধর্মপ্রাণ জনগণের অনুভূতিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছেন। একজন সংসদ সদস্যের কাছ থেকে এমন উসকানিমূলক বক্তব্য জাতি প্রত্যাশা করে না।

তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দলের জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্যের বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন। ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও জনগণের আবেগ-অনুভূতিতে আঘাত করে এমন বক্তব্য থেকে দলীয় সংসদ সদস্যদের বিরত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

তিনি অবিলম্বে এম এ মালিককে তার আপত্তিকর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য প্রত্যাহার করে জনসমক্ষে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

এর আগে শুক্রবার (৫ জুন) বালাগঞ্জ উপজেলার গহরপুর এলাকায় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এম এ মালেক। এ সময় তিনি দাবি করেন, গহরপুর এলাকাকে একসময় ‘পাকিস্তান’ মনে করা হতো। একই সঙ্গে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজুর বাবা, প্রয়াত আল্লামা নূরউদ্দীন আহমদ গহরপুরীকে ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ ও ‘পাকিস্তানি’ বলে উল্লেখ করেন।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর