Monday 22 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

৫০ কোটি টাকা ঘুসের প্রস্তাব: আমির হামজাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকে আবেদন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২২ জুন ২০২৬ ১৭:২৯ | আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ ১৮:০১

সংসদ সদস্য (এমপি) মুফতি আমির হামজা।

কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ বন্ধ রাখতে ৫০ কোটি টাকা ঘুসের প্রস্তাব দেওয়া ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় প্রকাশের দাবিতে সংসদ সদস্য (এমপি) আমির হামজাকে আইনি নোটিশ পাঠানোর পর এবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হৃদয় হাসান দুদক চেয়ারম্যানের কাছে এ আবেদন জমা দেন।

হৃদয় হাসান জানান, এর আগে ৫০ কোটি টাকার ঘুসের প্রস্তাব দেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ অথবা তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এমপি আমির হামজাকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেননি। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় তদন্তের স্বার্থে দুদকের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হৃদয় হাসানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ বলেন, ‘চলতি বছরের ১ এপ্রিল সংসদ সদস্য আমির হামজাকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে সাতদিনের মধ্যে ঘুস প্রস্তাবকারীদের নাম প্রকাশ অথবা তাদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

দুদকে জমা দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত এক ইফতার মাহফিলে এমপি আমির হামজা দাবি করেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ বন্ধ রাখার জন্য তাকে ৫০ কোটি টাকার ঘুসের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তার এ বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

আবেদনে আরও বলা হয়, এমন গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আনার পরও কারা এ ঘুসের প্রস্তাব দিয়েছিল, তাদের পরিচয় কিংবা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হয়নি। এ কারণে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান পরিচালনার জন্য দুদকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, ‘আমির হামজা বলেছেন, মেডিকেল কলেজ চালু নিয়ে তিনি তিনদিনের মধ্যে ৫০ কোটি টাকার অফার পেয়েছেন। অথচ কারা এ প্রস্তাব দিয়েছে, তাদের নাম প্রকাশ করছেন না। এটি একটি গুরুতর অপরাধের অভিযোগ।’

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এমপি আমির হামজার মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।