রাজবাড়ী: রাজবাড়ীতে সাপের কামড়ে মুক্তার খান পিন্টু (৩৮) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত দেড়টায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কৃষকের মৃত্যু হয়।
মৃত মুক্তার খান রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের মহাদেবপুর পদ্মার তীরবর্তী এলাকার মৃত ছাত্তার খানের ছেলে। তার চার বছরের ছেলে ও দুই বছরের মেয়ে সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সকালে গো-খাদ্যর জন্য বাড়ির পাশে ঘাস কাটতে যাই। তখন তাকে সাপে কামড় দেয়। প্রথমে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দয়িত্বরত চিকিৎসক কী সাপে কামড় দিয়েছে সেটি জানতে চান। রোগী তখন সঠিক নাম বলতে পারে না এবং ধারণা হিসেবে রাসেল ভাইপারের কথা বলে। রোগীর পায়ে একটি ক্ষত চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়। সাপটি সঠিক শনাক্ত করতে না পারায় চিকিৎসক পরিবারের ঝুঁকি নিয়ে অ্যান্টি স্নেক ভেনম দিতে বলে। পরিবারের সদস্যরা তখন উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

প্রতিবেশীর কোলে মৃত মুক্তার খানের দুই ছেলে-মেয়ে।
মৃতের মামা মুনসুর আলী বলেন,’গত শনিবার সকাল ৮টার দিকে আমার ভাগ্নে বাড়ির পাশে ঘাস কাঁটতে গেলে তাকে সাপে কামড় দেয় এবং সাপে কামড় দেওয়ার পরপরই তাকে রাজবাড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সাপটির কথা সঠিক বলতে না পারায় তারা আমাদের ঝুঁকি নিয়ে অ্যান্টি স্নেক ভেনম দিতে বলে। আমরা সেখানে চিকিৎসা না দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর নিয়ে যেতে চাই। এর ভেতর একটি কবিরাজের কাছে নিয়ে আসা হয় তাকে। সেখানে কিছুক্ষণ চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি দেখা দিলে একইদিনে দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত দুইটায় মারা যায় সে।’
রফিক নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘আমাদের মহাদেবপুরে পদ্মার পাড় এলাকায় গত দুই থেকে তিন বছর যাবত সাপের উপদ্রব বেড়ে গেছে। বর্ষার সময় বিভিন্ন ধরনের বিষধর সাপ দেখা দেয়। মুক্তার নামের ছেলেটাকে সাপে কামড় দিলে সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেল। সাপের ভয়ে অনেকে মাঠে কাজ করতে সাহস পাচ্ছে না। এ অঞ্চলের মানুষ আতঙ্কে রয়েছে।’
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, ‘হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টি স্নেক ভেনম রয়েছে। অনেক সময় সাপটি চিহ্নিত করতে না পারলে এবং সাপটি বিষধর যদি না হয় অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগ করলে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এজন্য পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাদের অ্যান্টি স্নেক ভেনম দেওয়া হয়।’