ঢাকা: কাজী নজরুল ইসলামের ৪৯তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের (আইজিসিসি) আয়োজনে এক মনোমুগ্ধকর ‘নজরুল সন্ধ্যা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) ভারতীয় হাইকমিশনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার গুলশানের আইজিসিসিতে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে বিশিষ্ট শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, নজরুল গবেষক ও তরুণ প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক শিল্পপ্রেমী উপস্থিত থেকে বিদ্রোহী কবিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, ‘নজরুল ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক।’ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে তার ভূমিকা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘নজরুলের কবিতা দাসত্ববরণ করা জাতিকে জাগ্রত করেছিল, স্বাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে অনুপ্রাণিত করেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘নজরুলের মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।’
স্বাগত বক্তব্যে আইজিসিসির পরিচালক অ্যান মেরি জর্জ ভারত-বাংলাদেশের দীর্ঘস্থায়ী সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘নজরুলের মতো সাহিত্য ও শিল্পের মহান ব্যক্তিত্বদের উদযাপনের মাধ্যমে আইজিসিসি এই অঞ্চলের যৌথ ঐতিহ্যকে লালন করছে।’
সন্ধ্যার মূল আকর্ষণ ছিল নজরুলসংগীত পরিবেশনা। খ্যাতিমান শিল্পী ড. চন্দা চক্রবর্তী ও শহীদ কবির পলাশ নজরুলের বিদ্রোহী গান থেকে শুরু করে ভক্তিমূলক ও প্রেমের গান পরিবেশন করেন। তাদের কণ্ঠে নজরুলের বিপ্লবী চেতনা ও কাব্যিক সৌন্দর্য প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা থেকে শুরু করে ভক্তিমূলক ও রোমান্টিক রচনার সুরেলা পরিবেশনা দর্শক-শ্রোতাদের আবেগাপ্লুত করে। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কবি, সংগীতজ্ঞ, মুক্তিকামী ও দার্শনিক কাজী নজরুল ইসলামকে স্মরণ করা হয়—যার জীবনদর্শন স্বাধীনতা, সাম্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে আছে এবং যা বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ ঐতিহ্যের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।