সাতক্ষীরা: সুন্দরবনে অপহৃত সাত জেলে মুক্তিপণের টাকা পরিশোধের পর সুস্থভাবে বাড়ি ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে বিকাশের মাধ্যমে আড়াই লাখ টাকা দেওয়ার পর জলদস্যুরা তাদের ছেড়ে দেয়।
ফিরে আসা জেলেরা হলেন— মীরগাং গ্রামের সাকাত সরদারের ছেলে মো. ইব্রাহিম, পারশেখালী গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুল হামিদ, টেংরাখালী গ্রামের সুজন মুন্ডার ছেলে সুজিত, কালিন্চি গ্রামের কেনা গাজীর ছেলে রকিবুল ইসলাম, কেউবাচলি গ্রামের আব্দুস সাত্তারসহ কালিন্চি কলোনিপাড়ার আরও দু’জন।
এর আগে সোমবার ও মঙ্গলবার পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের দাড়গাং এলাকার খাল থেকে ছয় সদস্যের এক জলদস্যু দল জেলেদের নৌকাসহ অপহরণ করে।
ইব্রাহিমের চাচা সাহেব আলি জানান, জেলেদের মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হলেও অনুনয়-বিনয়ের পর তা কমিয়ে ৩৫ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। সাতজনের মোট ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা এবং খরচ বাবদ আরও ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে তারা মুক্তি পান।
অপহৃত জেলেদের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, ছয় সদস্যের ওই জলদস্যু দল নিজেদের ‘কাজল বাহিনী’ পরিচয় দিয়েছে। তারা চারটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ একটি ডিঙ্গি নৌকায় ছোট বৈকেরী খালের ভেতর অবস্থান করছিল। মুক্তিপণ দেওয়ার পর তাদের জানানো হয়, আগামী দুই মাস সুন্দরবনে প্রবেশে আর কোনো টাকা দিতে হবে না।
অপহৃত জেলে সুজিত জানান, জলদস্যুরা তাদের মারধর করেনি। শুধু মুক্তিপণের টাকা নিয়েই ছেড়ে দিয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল হামিদ লালটু জানান, অপহরণের শিকার জেলারা বাড়ি ফিরে এসেছে। ফিরে আসা জেলেদের মধ্যে পাঁচ জনের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা গেলেও অপর দুই জনের বাসা কালিণ্চি কলোনিপাড়ায়।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. ফজলুল হক জানান, ‘জাল নৌকা ঠিক করার মুহূর্তে জলদস্যুরা তাদের অপহরণ করে নিয়ে যায়। জলদস্যুদের অপতৎপরতা বন্ধে মৌসুম শুরুর আগে থেকেই স্মার্ট পেট্রোল টিমসহ একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।’
শ্যামনগর থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, জেলেদের ফিরে আসার বিষয়টি এখনো কেউ পুলিশকে জানায়নি। তবে পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।