ঢাকা: জাতীয় পার্টির (জাপা) কার্যালয়ের সামনে সেনা-পুলিশের সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর আহত হওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একদল শিক্ষার্থী। এ সময় তারা জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার টার দিকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্ট প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হন। এ সময় শিক্ষার্থীদের ‘জাপা, ব্যান ব্যান’, ‘একটা একটা জাপা ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’, ‘হাসিনা গেছে যেই পথে, জাপা যাবে সেই পথে’, ইন্টেরিম চমৎকার ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।
শিক্ষার্থীরা বলেন, ভারতের প্রেসক্রিপশনে আগে জিএম কাদেররা নির্বাচন করেছে। আওয়ামী লীগ বিপদে থাকায় ভারত জাতীয় পার্টিকে এখন বি-টিম হিসেবে ব্যবহার করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। জাতীয় পার্টির ওপর ভর করে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, এমনটা হলে আবারও আপনাদের উপর ৫ আগস্ট নেমে আসবে।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোসাদ্দিল আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‘পুলিশ তাদের আগের আচরণ এখনো বদলায়নি। ৫ আগস্ট পরে যখনই জুলাইয়ের যোদ্ধারা দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন করেছে হাসিনার আমলের মতো পুলিশ একই কায়দায় হামলা চালিয়েছে। বুয়েটের শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলনে পুলিশ হামলা চালিয়েছে। হামলায় জড়িত পুলিশদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
আরেক শিক্ষার্থী জামালুদ্দিন খালিদ বলেন, ‘নুরুল হক নুরকে নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু হাসিনার ফ্যাসিবাদের আমলে তিনি সাহসের প্রতীক ছিলেন। তিনি জাতীয় নেতা, ফ্যাসিবাদের দোসর জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। হামলার ভিডিও দেখে স্পষ্ট বুঝায় যায় এটা পরিকল্পিত হামলা। জুলাইয়ের ওপর যারা হাত তুলবে তাদের আমরা ছেড়ে দিবো না। যেসকল পুলিশ ও সেনাবাহিনী হামলায় জড়িত তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। ফ্যাসিবাদের দোসর জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করতে হবে।’
ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হলেও তারা এখনো চিপায়-চাপায় রয়ে গেছে। এই জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের বি-টিম হিসেবে ছিল। আজকের ঘটনার পর জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ বন্ধ করতে হবে। যদি এই ঘটনার পরও জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ না করা হয় শিক্ষার্থীরা আবারও জুলাই ঘটাবে।’