ঢাকা: আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আজ। ক্যালেন্ডারে দিনটি হয়তো একটি তারিখ মাত্র, কিন্তু শত শত নিখোঁজ মানুষের পরিবারের কাছে এটি এক যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতির দিন। কারও বাবা, কারও ভাই, কারও সন্তান কেউ আর ফেরেনি ঘরে। তাই প্রতি বছর ৩০ আগস্ট এলে নতুন করে নাড়া খায় অপেক্ষার প্রহর।
২০১০ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘের এক সম্মেলনে ৩০ আগস্টকে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস ঘোষণা করা হয়। মূল উদ্দেশ্য ছিল গুম নামক মানবতাবিরোধী অপরাধকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা এবং রাষ্ট্রগুলোর ওপর জবাবদিহিতার চাপ সৃষ্টি করা। পরের বছর থেকেই বাংলাদেশে দিনটি পালিত হতে থাকে।
বাংলাদেশে গুমের ইতিহাস খুব বেশি পুরোনো নয়, কিন্তু তা তীব্রভাবে আলোচিত। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ আমলে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, এমনকি সাংবাদিকদের গুমের ঘটনা আলোচনায় আসে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে মানুষ তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, কিন্তু পরে আর খোঁজ মেলেনি।
জুলাই ২০২৪-এ গণঅভ্যুত্থানের পর এই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়। অন্তর্বর্তী সরকার এখন গুমের ঘটনা তদন্ত করছে। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে সই করেছে বাংলাদেশ এবং গঠন করেছে গুম তদন্ত কমিশন। পাশাপাশি গঠিত গুম তদন্ত কমিশন এ পর্যন্ত দুটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ আমলে বিরোধী মত দমনের নামে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, মানবাধিকারকর্মীসহ বহু মানুষকে গুমের শিকার হতে হয়েছে। এসব ঘটনার তদন্ত চলছে এবং এরই মধ্যে বেরিয়ে আসছে ভয়াবহ সব তথ্য। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা গুমের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
দিবস উপলক্ষে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে।