ঢাকা: পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) উপলক্ষ্যে আশেকে রাসুল জেনারেল অফিসিয়ালস অর্গানাইজেশন (আর্গো)-এর উদ্যোগে ‘শান্তির দূত হযরত মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর জীবনাদর্শ’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে রাজধানীর কাকরাইল রোডে অবস্থিত আইডিইবি মিলনায়তনে সরকারি ও বেসরকারি পেশাজীবীদের অংশগ্রহণে এই সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্ব প্রদানকারী ইমাম, প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর।
একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবির গুরুত্ব প্রসঙ্গে প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা বলেন, এই দিনটি হচ্ছে সৃষ্টিকুলের শ্রেষ্ঠ ঈদ। তিনি আরও বলেন, যে ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর শুভ জন্মদিনে খুশি হয়, মহান আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করে দেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সাল থেকে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) উদ্যাপন করা হচ্ছে। মহান সংস্কারক হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা (রহ.) হুজুরের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার এই দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। বর্তমানে এই দিনটি পালনে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
ইমাম ড. কুদরত এ খোদা বলেন, সমাজে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে, হযরত রাসুল (সা.)-এর শুভজন্ম এবং ওফাত একই দিনে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা (রহ.) পবিত্র কুরআন, হাদিস এবং ঐতিহাসিক তথ্যের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে রাসুল (সা.)-এর ওফাত দিবস ছিল ১ রবিউল আউয়াল।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, রাসুল (সা.) বিদায় হজের ৮১ দিন পর ওফাত লাভ করেছিলেন। কিন্তু ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে ১২ রবিউল আউয়ালকেই তাঁর ওফাত দিবস হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এর ফলে মুসলিম জাতি সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানবের জন্মদিনে আনন্দ প্রকাশ করতে পারছে না, যা তাদের অবারিত রহমত থেকে বঞ্চিত করছে।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) হলেন সর্বকালের ও সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। মহান আল্লাহ তাঁকে সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ নিজেই রাসুল (সা.)-এর আদর্শ সম্পর্কে বলেছেন, “তোমাদের জন্য রাসুল (সা.)-এর মধ্যে রয়েছে সুন্দরতম আদর্শ।”
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, রাসুল (সা.)-এর জীবনাদর্শ গোটা মানবজাতির জন্য অনুসরণীয়। আজকের এই সেমিনারে তাঁর শুভ আগমন থেকে শুরু করে বর্ণিল জীবনের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। এই উপস্থাপনা দয়াল রাসুল (সা.)-এর সুমহান শিক্ষা, আদর্শ এবং মর্যাদা সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দিয়েছে।
বক্তারা ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.)-কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) আনন্দ ও উৎসাহের সাথে পালন করলে মহান আল্লাহ এবং রাসুল (সা.) আমাদের ওপর সন্তুষ্ট হবেন। তাঁরা আরও বলেন, ‘ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.)’ হলো রাসুল (সা.)-এর জন্মলাভের আনন্দ। এই আনন্দের দিনে যারা খুশি হন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাদের ওপর সন্তুষ্ট হন।
সেমিনারে বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম, সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. পিয়ার মোহাম্মদ ও মো. জাকীর হোসেন (বিশিষ্ট নজরুল গবেষক), সাবেক যুগ্ম সচিব মো. নুরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আহসানুল হাদী, প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাছান, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মো. আবদুল আজিজ খলিফা, সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল প্রফেসর ডা. ফারুকুল ইসলাম, হযরতুল আল্লাম মুহাদ্দেছ এমরান হোসাইন মাজহারী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসান।
বক্তারা দেশের সকল মানুষকে অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) উদযাপনের আহ্বান জানান। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন পিইউবির সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ নাছিরউদ্দীন সোহেল।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রধান অতিথি ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর তাঁর বক্তব্যে বিশ্ববাসীর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করেন।