Sunday 31 Aug 2025
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘তৎকালীন প্রশাসন-ছাত্রলীগকে জবাবদিহিতায় আনলে ওয়ালিউল্লাহ-মুকাদ্দাসের সন্ধান মিলবে’

ইবি করেসপন্ডেন্ট
৩১ আগস্ট ২০২৫ ০০:১০

ছাত্রশিবিরের মানবন্ধন।

কুষ্টিয়া: তৎকালীন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসন ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের যোগসাজশে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ও ছাত্রশিবির নেতা গুম হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে শাখা ছাত্রশিবির।

শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষ্যে প্রশাসন ভবনের সামনে গুম হওয়া ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মুকাদ্দাসকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে শাখা ছাত্রশিবিরের মানবন্ধনে এই অভিযোগ করা হয়। গত ১৩ বছর আগে তারা গুম হয়েছে বলে বক্তারা উল্লেখ করেছেন।

এ সময় সংগঠনটির শাখা সভাপতি মাহমুদুল হাসান, সেক্রেটারি ইউসুব আলী, আন্তর্জাতিক সম্পাদক হাসানুল বান্না অলি ও নিখোঁজ ওয়ালিউল্লাহর বড় ভাই খালিদ সাইফুল্লাহসহ সংগঠনটির দুই শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

মানববন্ধনে ওয়ালীউল্লাহর বড় ভাই খালিদ সাইফুল্লাহ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সেসময় যারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে ছিল তাদের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের কাজ মোটেই সম্ভব ছিল না। আমরা মিডিয়া এবং প্রশাসনের ঘরে ঘরে গিয়ে যতটুকু জানতে পেরেছি— তৎকালীন এখানকার প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যোগসাজশেই ওয়ালি-মোকাদ্দাসকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছিল। যদি ওরা বেঁচে না থাকে তাহলে দোয়া করার জন্য ওদের কবরটা আমরা দেখতে চাই। আমরা সর্বোচ্চ প্রশাসনের কাছে ওয়ালি-মোকাদ্দাসসহ সারাদেশে যতগুলো গুম হয়েছে তাদের সন্ধান চাই।’

শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান প্রধান উপদেষ্টার কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মুকাদ্দাস ভাইকে ফেরত পাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীরা সব ধরনের চেষ্টা করেছে। কিন্তু আপনারা কতটুকু চেষ্টা করেছেন সেটি শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। দ্রুত গুম কমিশনের প্রতিবেদন জাতির সামনে প্রকাশ করুন, আমাদের ভাইদের সন্ধান দিন। তৎকালীন সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা, ডিজিএফআই, এনএসআই ও র‌্যাবসহ ক্যাম্পাসের আশেপাশের এলাকায় প্রশাসনিক দায়িত্বে যারা ছিলেন তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসলে নিঃসন্দেহে ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মুকাদ্দাসের সন্ধান পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদেরও তেমন কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে দেখিনি। অতিদ্রুত তাদের বিষয়ে কথা না বললে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, ওয়ালিউল্লাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এবং তৎকালীন শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক ছিলেন। আল-মুকাদ্দাস ছিলেন তৎকালীন আল ফিকহ বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রশিবিরের সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক। ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে ঢাকা-কুষ্টিয়াগামী হানিফ এন্টারপ্রাইজের ৩৭৫০ নম্বর গাড়িতে ক্যাম্পাসে যাওয়ার পথে আশুলিয়ার নবীনগর থেকে ওয়ালিউল্লাহ ও মুকাদ্দাসকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে পুলিশ তাদের গ্রেফতারের কথা অস্বীকার করে। এরপর থেকে তাদের ফিরে পেতে ইবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ধর্মঘট ও বহুবার মানববন্ধন করলেও এখন পর্যন্ত তাদের খোঁজ মেলেনি।

সারাবাংলা/এইচআই

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস ইবি ওয়ালিউল্লাহ-মুকাদ্দাস গুম

বিজ্ঞাপন

ঢাকার বাতাস ফের দূষিত
৩১ আগস্ট ২০২৫ ১১:১২

৮ বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস
৩১ আগস্ট ২০২৫ ১০:৪১

আরো

সম্পর্কিত খবর