Sunday 31 Aug 2025
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কাঁদতে কাঁদতে চবির প্রোভিসি বললেন— নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ক্যাডাররা মারছে

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৩১ আগস্ট ২০২৫ ১৮:১৭ | আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৫ ২০:৪৭

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম ব্যুরো: গ্রামবাসীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের মধ্যে আহত হয়ে সাংবাদিকদের সামনে এসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন। তিনি অভিযোগ করেছেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ক্যাডাররা হেলমেট পরে গ্রামবাসীর মধ্যে ঢুকে শিক্ষার্থীদের আক্রমণ করেছে।

রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আহত উপ-উপাচার্য। এ সময় তিনি সময়মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগও করেন। তবে বিকেল ৪টার দিকে সেনাবাহিনী-র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গেছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন সাংবাদিকদের কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি তুলনামূলক ভালো আছি। কিন্তু আমার অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মেরে মেরে ওখানে ফেলে দিচ্ছে। আমরা এখনও আর্মি-বিজিবি কিছু পাচ্ছি না। আমার অসুস্থ হাত, সেই হাত দুটো চাপ দিয়ে তারা আমাকে আহত করেছে। প্রত্যেক ছাত্রকে তারা দা দিয়ে কোপাচ্ছে, সবদিকে কোপাচ্ছে। এটা কোন জায়গায় আছি আমরা?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছাত্রদের উদ্ধার করতে বলেন। আমি প্রোভিসি আহত, প্রক্টর আহত, শিক্ষকদের মারছে, শিক্ষার্থীদের মারছে। এখনও মারতেছে। আমরা মেডিকেলে জায়গা দিতে পারছি না। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আমরা তিনটি গাড়ি দিয়ে আহত ছাত্রদের পাঠিয়েছি। এখানে আমাদের ৪০০-৫০০ ছাত্র আহত হয়েছে।’

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালানোর অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমরা কোন জগতে আছি? সকল ছাত্রলীগের ক্যাডাররা, সকল বড় বড় ক্যাডাররা এখানে ঢুকে ঢুকে, হেলমেট পরে তারা আমার ছাত্রদের মারতেছে। কোনো পুলিশ নেই, কেউ নেই। আমরা জিওসির সঙ্গে কথা বলেছি, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছি, প্রধান উপদেষ্টার দফতরে কথা বলেছি। দুই ঘণ্টা (দুপুর ১টা) চলে গেছে, এখনও আমাদের পাশে কেউ আসেনি। আমাদের ছাত্রদের আমরা উদ্ধার করতে পারছি না।’

এ কথা বলার পর অধ্যাপক কামাল কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি দুই হাত জোড় করে বলেন, ‘আমি নিজে আহত অবস্থায়, আমি হাতজোড় করে আমাদের ছাত্রদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। শিক্ষার্থীরা তোমরা শান্ত থাক, এলাকাবাসী আপনারা শান্ত হোন। আমরা এতবছর ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আছি, এই গ্রামের সঙ্গে আমাদের অনেক ভালো সম্পর্ক। এখানে একটা কুচক্র চলছে। কেউ কারও গায়ে হাত দিও না ভাই। তোমরা শান্ত হও, তোমরা শান্ত হও, আমরা অনুরোধ করছি। শিক্ষার্থীরা আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি, এগুলোর বিচার হবে, তোমরা শান্ত হও।’

এর আগে, শনিবার (৩০ আগস্ট) মধ্যরাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় জোবরা গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। পুলিশ, চবি’র নিরাপত্তা বাহিনী এবং প্রক্টরের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

এর জের ধরে রোববার সকাল থেকে একই এলাকায় আবারও উত্তেজনা এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষের শুরু হয়। রক্তক্ষয়ী এ সংঘর্ষে বিকেল পর্যন্ত শতাধিক শিক্ষার্থী আহতের খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় প্রশাসনকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করতে হয়েছে।

সারাবাংলা/আরডি/পিটিএম

চবি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ক্যাডার প্রোভিসি মারছে

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর