ঢাকা: কাজ দিয়ে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পেরে একটি অংশ ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের চরিত্রহননের চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থীজোটের ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম।
রোববার (৩১ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কাজ দেখে ইর্ষান্বিত হয়ে আমাদেরকে মোকাবিলা না করতে পেরে এখন আমাদের চরিত্রহনননের চেষ্টা করছে। আমাদের আইডিতে গিয়ে দেখবেন; গালাগালির কোনো লিমিট নাই। কারা কমেন্ট করছে-খোঁজ নিলে দেখবেন, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে পাবেন।’
ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদের বিরুদ্ধে রিটের ঘটনায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট। সম্মেলনে রিট করাকে সাধুবাদ জানান ফরহাদ।
তিনি বলেন, ‘বেশ কয়েকটি দল সাদিক কায়েম এবং আমাকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ছবি, ভিডিও এডিট করে প্রকাশ করেছেন; তার থেকে তারা এখন কোর্টে গিয়েছেন, এটা ভালো।’
ফরহাদ বলেন, ‘তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করে সবাই মিলে পুরোনো এজেন্ডা নতুন করে সামনে আনছেন। আমরা বারবার একাত্তর এবং চব্বিশকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর প্রতিবাদ করেছি। তাদের শিক্ষার্থী বিচ্ছিন্নতার কারণে এবং নিজেদের শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরার মতো কোনো ইতিবাচক কাজ না পেয়ে সকাল-বিকেল-সন্ধ্যা ছাত্রশিবিরের সমালোচনা করছে।’
তিনি বলেন, ‘যারা আওয়ামীলীগের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, আয়নাঘরকে ক্ষমতায়ন করেছে; ২০১৩ সাল এবং ২০১৪ সালের নির্বাচন পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত, ছাত্রশিবির, ছাত্রদল আন্দোলন করেছিল; তখন তারা এই আন্দোলনকে ক্রিমিনালাইজ করেছে। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়িত হয়েছিল এবং ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। চব্বিশে হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা শহিদ হয়েছে, এর দায়ও তাদের ওপর বর্তায়। সে অপরাধকে ঢাকবার জন্য আর কিছু না পেয়ে তারা মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছে। এটি নিয়ে আমরা বিচলিত নই।’
শেষে সাদিক কায়েম বলেন, ‘আমাদের জোটের নারী প্রার্থীদের সাইবার বুলিং করা হচ্ছে। আক্রমণ করা হচ্ছে। আমরা নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিয়েছি। তিনদিন তিনদিন হয়ে গেল, এখনো কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। একটি সুষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে বাংলাদেশের মানুষ তাকিয়ে আছে; তা নিয়ে আমরা আশঙ্কিত।’
নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতমূলক আচরণ দেখছি। এখানে বিভিন্ন রঙ্গের শিক্ষক আছে। সেই রং দ্বারা যদি তারা প্রভাবিত হয় এবং তাদের ছাত্রসংগঠনকে সুবিধা দেয়, তাহলে তারা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে।’