ঢাকা: ওয়াহিদ–কোহিনুর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৩৩ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করেছে টিম গ্রুপ। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সাভারে অবস্থিত টিম গ্রুপের ফোর–এ ইয়ার্ন ডাইং লিমিটেড কারখানার সংলগ্ন হাজী পিয়ার আলী স্কুলের শিক্ষার্থীদের হাতে এ বৃত্তি তুলে দেওয়া হয়।
স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সামাজিক মানোন্নয়ন ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ধারাবাহিকতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। রোববার (৩১ আগস্ট) টিম গ্রুপের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ফোর–এ ইয়ার্ন ডাইং কারখানার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শ্রমিকের সন্তান এই স্কুলে পড়াশোনা করে। এর আগে টিম গ্রুপের পক্ষ থেকে স্কুলটিতে একটি কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছিল।
টিম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রয়াত আবদুল্লাহ হিল রাকিব ২০২৪ সালের জুন মাসে ওয়াহিদ–কোহিনুর ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই বৃত্তি চালু করেন। এই ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্য জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) মধ্যে এসডিজি–৪ (গুণগত শিক্ষা) ও এসডিজি–১১ (টেকসই নগর ও সমাজ) বাস্তবায়নে অবদান রাখা।
বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে টিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা শাহীন ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ হিল নাকিব শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তি ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। এ সময় টিম গ্রুপের পরিচালক লামিয়া তাবাসসুমসহ প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৃত্তির পরিমাণ শ্রেণি ও পারফরম্যান্সভেদে নির্ধারিত হয়। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি ক্যাটাগরি রাখা হয়— ক্যাটাগরি–১: ৫ হাজার টাকা, ক্যাটাগরি–২: ৩ হাজার টাকা ও ক্যাটাগরি–৩: ২ হাজার টাকা। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির জন্যও একইভাবে তিনটি ক্যাটাগরি ছিল— ক্যাটাগরি–১: ৬ হাজার টাকা, ক্যাটাগরি–২: ৪ হাজার টাকা ও ক্যাটাগরি–৩: ২ হজার টাকা।
অনুষ্ঠানে আফরোজা শাহীন বলেন, “টিম গ্রুপ সব সময় মানবসম্পদ উন্নয়নে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আসছে। যে এলাকায় আমরা ব্যবসা পরিচালনা করি, সেখানকার মানুষের কল্যাণেও আমরা কাজ করে থাকি। এই বৃত্তি সেই অঙ্গীকারেরই ধারাবাহিকতা।”
তিনি আরও বলেন, “বার্ষিক এই বৃত্তি কর্মসূচি শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে টিম গ্রুপের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অংশ। এটি স্থানীয় শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অগ্রযাত্রায় স্থায়ী সহায়তা দেবে।”
উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ হিল নাকিব বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষিত প্রজন্মই আগামী দিনে টেকসই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হবে। এই বৃত্তি কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রতি আমাদের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক। আশা করি, তারা ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশকে আরও আলোকিত করবে।’