রাজবাড়ী: হঠাৎ করেই রাজবাড়ী জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে গেছে। জেলা সদর হাসপাতাল থেকে শুরু করে উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছেন নতুন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে সাতজন রোগী ভর্তি হয়েছেন—এর মধ্যে পাঁচজন রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে, একজন বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং একজন গোয়ালন্দে।
জুলাই মাসে জেলায় মোট ৫৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলেও আগস্টে সংখ্যাটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ জনে।
চিকিৎসকরা বলছেন, এখনই সচেতন না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগী আসিফ বলেন, ‘গত শনিবার আমার জ্বর আসে। কিন্তু জ্বর না কমায় আমি প্রথমে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাই সেখানে পরীক্ষার পর আমার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। এরপর বাড়িতে থেকেই সেবা নেই। কিন্তু দিন দিন শরীর খারাপের দিকে গেলে শনিবার রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি হই।’
আরেক ডেঙ্গু রোগী অমর আলী বলেন, ‘গত ৫ দিন ধরে জ্বর থাকায় পরীক্ষা করে ডেঙ্গু ধরা পরে। আমি সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি শনিবারে। হাসপাতালে অনেক নোংরা পরিবেশ। শৌচাগার পরিষ্কার করে না। ভালো লোক সেখানে গেলে সে নিজেই অসুস্থ হয়ে যাবে। হাসপাতালে ভর্তি না থেকে বাড়িতে থাকলে ভালো হতো।’
সোহেল মন্ডল নামের এক রোগী বলেন, ‘আমার জ্বর কিন্তু ডেঙ্গু পরীক্ষা করে ডেঙ্গু ধরা পরে নাই। কিন্তু আমার সহ আরো কিছু রোগী যাদের ডেঙ্গু হয়নি তাদের আর ডেঙ্গু রোগীর একই রুমে রেখেছে। এতে তো আমাদের ডেঙ্গু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের মশারির মধ্যে থাকার কথা। কিন্তু তারা বেশিরভাগ সময় মশারির ভেতর থাকে না। আমরা চাই ডেঙ্গু রোগীর জন্য আলাদা স্থান করা হোক।’
ডেঙ্গু রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতাল অনেক নোংরা। শৌচাগারে যাওয়া যায় না। চিকিৎসার ব্যবস্থা তেমন ভালো না। ডক্টর যে মেডিসিন দেই, নাপা ছাড়া বাকি মেডিসিন বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়। ডক্টর ডেঙ্গু রোগীর ডাব খাওয়াতে বলে। হাসপাতালের সামনে বেশ কিছু দোকান আছে। সেখান থেকে কিনতে গেলে আকার ভেদে একটি ডাবের দাম নেই ১১০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা। যা বাইরে থেকে কিনলে ৮০ থেকে ১২০ টাকায় পাওয়া যায়। এত দাম হলে গরিব মানুষেরা রোগীকে কেমনে খাওয়াবে। প্রশাসনের এদিকে নজর দেওয়া উচিত।
রাজবাড়ী পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তায়েব আলী বলেন, আমাদের কাভার্ড ভ্যান পর্যাপ্ত না থাকায় পৌর অঞ্চলের ময়লা সম্পূর্ণ পরিষ্কার করতে পারছি না। এছাড়া মসকিউটো মেডিসিনও না থাকার কারণে আমাদের সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। আমরা পৌরবাসীর কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছি না। বেশ কয়েকটি ফগার মেশিন থাকলেও ভালো রয়েছে মাত্র দুইটি। প্রশাসনকে জানানো হয়েছে, এগুলো পেলে পৌরবাসীকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারবো।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, ‘জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রোগী আসতেছে। হাসপাতালে তাদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো রোগী ক্রিটিক্যাল সিচুয়েশনে যায়নি। তবে সবাইকে ডেঙ্গু নিয়ে সচেতন থাকতে হবে।’