পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পরিবার তার জীবিত থাকার প্রমাণ চেয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহজুড়ে তাকে দেখতে না পাওয়া এবং অনলাইনে মৃত্যুর গুজব বাড়তে থাকায় উদ্বেগ তীব্র হয়েছে। পরিবারের দাবি, তাকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে এবং আত্মীয়স্বজন বা আইনজীবীদের কাউকেই দেখা বা যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইমরান খানের ছেলে কাসিম খান দাবি করেছেন, ৮৪৫ দিন ধরে আটক ইমরান খানকে ডেথ সেলে রাখা হয়েছে, যা নিরাপত্তা প্রোটোকলের অংশ নয়।
তিনি বলেন, ‘গত ছয় সপ্তাহ ধরে তাকে সম্পূর্ণ একা রাখা হয়েছে। কোনো ফোন নেই, কোনো সাক্ষাৎ নেই, এমনকি তার খোঁজ-খবরও দেওয়া হচ্ছে না। আমার ভাই আর আমি বাবার সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করতে পারছি না।’ কাসিম অভিযোগ করেন, এটি ইচ্ছাকৃতভাবে তার বাবার স্বাস্থ্য সম্পর্কে অন্ধকার তৈরি করার একটি কৌশল এবং এর দায় সরকারকে বহন করতে হবে।
পরিবারের অভিযোগ, ইমরান খানের সমর্থকদের বিরুদ্ধেও পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছে।
ইমরান খানের দল পিটিআই-এর (পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ) নেতা জুলফি বুখারি দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে বলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে মৃত্যুর গুজবকে গুরুত্ব না দিলেও, ইমরান খানের দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতা গুজবকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের শুধু তাকে দেখতে দেওয়া হোক, তাতেই সব গুজব থেমে যাবে।’
তবে আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান জেলেই আছেন এবং সুস্থ আছেন। তাঁর স্বাস্থ্য সম্পর্কে পিটিআই নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় সব সেবাই দেওয়া হচ্ছে। তার গোপনে স্থানান্তরের গুজবকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহও গুজবকে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘এটি সম্পূর্ণ ভুল। তার স্বাস্থ্যের যথাযথ যত্ন নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা প্রতিদিন ও সাপ্তাহিকভাবে তাঁর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন।’
উল্লেখ্য, ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন, যা তার দল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে।