থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা শনিবার (২৯ নভেম্বর) ৩৭০ ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়ায় শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ, মৃতদেহ অনুসন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিষ্কারের প্রচেষ্টা। সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী ইন্দোনেশিয়ায়ই নিহতের সংখ্যা ২০০-এর বেশি।
উত্তর সুমাত্রায় আরও ১১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর আচেহ প্রদেশে নিহত অন্তত ৩৫।
জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার (বিএনপিবি) প্রধান সুহারিয়ানতো এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, পশ্চিম সুমাত্রায় বৃষ্টিপাত কমাতে ক্লাউড সিডিং কার্যক্রম শুরু হবে। যদিও শনিবারের মধ্যে অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি কমে গেছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে সঙখলা প্রদেশে পানির উচ্চতা তিন মিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা বলে বিবেচিত হচ্ছে। সেখানে বন্যায় অন্তত ১৬২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চানভিরাকুল দুই সপ্তাহের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের পরিষ্কার অভিযান শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন। থাই সরকার মৃত পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ ২০ লাখ বাহত (৬২ হাজার ডলার) পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে। দেশটিতে ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে, যদিও অনেকে এরই মধ্যে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন।
মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, থাইল্যান্ডের হাট ইয়াইয়ে ভয়াবহ বন্যায় আটকা পড়া ছয় হাজারের বেশি মালয়েশীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার উত্তরের পারলিস প্রদেশে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বার্ষিক বর্ষা মৌসুম (জুন–সেপ্টেম্বর) প্রায়ই বন্যা ও ভূমিধস সৃষ্টি করে। তবে এ বছর একটি ট্রপিক্যাল ঝড় পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে এ বছরের বন্যা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনাগুলোর একটি।