Saturday 29 Nov 2025
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

দৃষ্টি-শ্রবণহীন হয়েও গাছ কাটাই ভরসা হার না মানা রমেশের

মো. রাসেল, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৯ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:১৪ | আপডেট: ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:১৫

ধারাল ছেনি দিয়ে তাল-নারিকেল গাছের ডাল কাটছেন রমেশ। ছবি: সারাবাংলা

কুমিল্লা: চোখে দেখতে পান না, কানেও ঠিকমতো শোনেন না। রয়েছে শ্বাসকষ্টও। বয়স ৬৫ ছুঁইছুঁই। তবুও থেমে নেই জীবন সংগ্রাম। লাঠি হাতে পথ চিনে একেকটি গ্রাম পেরিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ গাছ পরিষ্কারের কাজই তার উপার্জনের একমাত্র ভরসা। ভিক্ষাকে অপমানভাবেন বলেই আজও দৃষ্টি ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী শরীর নিয়ে গাছে ওঠেন কুমিল্লার দাউদকান্দির চাপাতলী গ্রামের রমেশ চন্দ্র মজুমদার।

সরেজমিন দেখা যায়, রমেশকে কেউ একজন হাত ধরে গাছের গোড়ায় নিয়ে দেন। এরপর গাছে ওঠার জন্য লাঠি বেঁধে নেন নিজেই। ধারাল ছেনি দিয়ে তাল-নারিকেল গাছের ডাল কাটেন অত্যন্ত সাবধানে। চোখে দেখেন না বলে হাতের অনুভূতিই তার ভরসা। পাশেই টিনের চালা—সামান্য ভুলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অনেক সময় আশপাশের লোকজন তাকে চিৎকার করে সাবধান করে। কিন্তু তাতেও তিনি পুরোটা শোনেন না, আরও জোরে বললে তবেই বুঝতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

গত ১৫ বছর ধরে অন্ধত্বে ভুগছেন রমেশ। এক ছেলে ও দুই মেয়ের জনক তিনি। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। একমাত্র ছেলে বিদেশে গিয়ে স্থায়ীভাবে কাজ পাননি। পরিবার চালাতে তাই এখনও রমেশের ওপরই ভরসা।

রমেশ জানান, ভিক্ষা করা তার পছন্দ নয়। তাই কষ্টের কাজই বেছে নিয়েছেন। প্রতি নারিকেল গাছ পরিষ্কারে ১২০ টাকা নেন তিনি। তাল গাছে আর ওঠেন না ঝুঁকির কারণে। কোনো দিন আয় হয় ৪০০ টাকা, কোনো দিন ৬০০। তবে, প্রতিদিন বের হতে পারেন না শারীরিক দুর্বলতার কারণে।

রমেশের স্ত্রী তুলসী মজুমদার বলেন, ‘তিনি কাজে গেলে সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকি। কিভাবে ফিরবেন? কখন ফিরবেন? সংসারের অবস্থাই এমন যে তাকে কাজ করতে যেতে হয়। চিকিৎসা আর একটু সহযোগিতা পেলে এই কষ্ট অনেকটাই কমে যেত।’

এলাকাবাসীর দাবি, স্বাস্থ্যসেবা ও পেশাগত সহায়তা পেলে রমেশের চোখ আংশিকভাবে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি পরিবারে স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা হলে এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে তাকে মুক্ত করা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর