নওগাঁ: নওগাঁর মহাদেবপুরে একটি মাদ্রাসায় আয়া পদে নিয়োগ পরীক্ষার সময় স্থানীয়দের তোপের মুখে ওই নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার উত্তরগ্রাম হাটখোলা দাখিল মাদ্রসায় এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, নিয়োগ প্রক্রিয়ার আগেই ওই মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম পলাশের স্ত্রী স্বপ্না খানমকে ৮ লাখ টাকার বিনিময়ে আয়া পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য নির্বাচিত করা হয়।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিতের দাবিতে অভিযোগপত্র দেন। এরপর শনিবার বিকেলে নিয়োগ বোর্ড গঠনের প্রস্তুতি নিলে স্থানীয়দের তোপের মুখে সেটা স্থগিত ঘোষণা করেন ডিজির প্রতিনিধি।
স্থানীয়দের অভিযোগ- আয়া পদে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম পলাশের স্ত্রী স্বপ্না নিয়োগ দেওয়ার জন্য গোপনে সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছিল; শুধু আনুষ্ঠানিকতা বাকি ছিল।
স্বপ্না খানমকে পরীক্ষায় জেতানোর জন্য সভাপতির আত্মীয় মিম আকতার ও পান্না আকতারকে ডামি প্রার্থী হিসেবে রাখা হয়েছিল। তাদের পাতানো ছক মোতাবেক ডিজির প্রতিনিধি শনিবার বিকেল তিনটার দিকে মাদ্রাসায় উপস্থিত হন। এরপর স্থানীয়দের তোপের মুখে বিকেল চারটার দিকে নিয়োগ বোর্ড স্থগিত ঘোষণা করে চলে যান।
অভিযোগের বিষয় জানতে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিলেও বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার সুপার এনামুল হক বলেন, ‘মাদরাসার নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করা হয়েছে।’
মহাদেবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও নিয়োগ বোর্ডের সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয়দের ক্ষোভের কারনে আজকের নিয়োগ বোর্ড স্থগিত ঘোষণা করেছে ডিজির প্রতিনিধি। পরবর্তীতে ম্যানেজিং কমিটি এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’