Saturday 29 Nov 2025
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আল্লাহর সাহায্যে জামায়াত বর্তমান অবস্থায় পৌঁছেছে: ডা. শফিকুর

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৯ নভেম্বর ২০২৫ ২২:৫৪ | আপডেট: ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ২২:৫৬

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সমাপনী অধিবেশনে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

ঢাকা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা জামায়াতে ইসলামীকে বর্তমান অবস্থায় পৌঁছাতে বিশেষভাবে সাহায্য করেছেন। মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ১৯৪১ সালে কার্যক্রম শুরুর পর অনেক বাধার সম্মুখীন হয়েছে, এখনো হচ্ছে। হকের পথে চললে বাধা আসবেই। রাসূল (সা.) এর প্রতি সাহাবায়ে কেরামের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আনুগত্য প্রশ্নাতীত ছিল। তারা আল্লাহর ওয়াস্তে রাসূল (সা.) এর প্রতি সর্বোচ্চ কুরবানির নজরানা পেশ করেছেন।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সমাপনী অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিভিন্ন ফেতনা-ফ্যাসাদের বিষয়ে আল্লাহর বিধান ও রাসূল (সা.) এর সুন্নতের আলোকে সাহাবায়ে কেরাম যে ভূমিকা পালন করেছেন আমাদেরকে সে নীতি, পদ্ধতি ও ঐতিহ্য অনুসরণ করে চলতে হবে। আল কুরআন তিলাওয়াত বিশুদ্ধভাবে শেখার ব্যাপারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। কুরআন মেনে চলার ব্যাপারে এটাই প্রথম পদক্ষেপ।

জামায়াত আমির আরও বলেন, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দায়িত্ববোধের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সচেতন থাকতে হবে। আমাদের সকল ক্ষেত্রেই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য সুদ, ঘুষসহ যা হারাম করেছেন তা বর্জন করতে হবে।

বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করার ব্যাপারে কোনো কোনো সময় কেউ কেউ সংগঠন ও আন্দোলনের প্রতিষ্ঠিত নীতি  ও পদ্ধতি পরিপন্থী ভূমিকা পালন করেন, তাদেরকে সতর্ক ও সাবধান হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

খলিফাতুল মুসলিমীন হযরত ওমর (রা.) হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.) এর ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন, তা থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করে চলতে হবে।

তিনি বলেন, দুনিয়ার সকল ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠন বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলনের দিকে গভীর আবেগ ও আস্থার সাথে তাকিয়ে আছে। আমাদের এ বিষয়ে সতর্ক থেকেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তি হল ইসলামী নীতি ও আদর্শ। আমাদের নৈতিকতার বন্ধন যেন কখনো শিথিল না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। ভালো ও নেক কাজের ব্যাপারে আমরা প্রতিযোগিতা করবো। খারাপ কাজ থেকে সবসময়ই দূরে থাকব।

ইসলামী আন্দোলনকে বিজয়ী করার জন্য আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক কুরবানী করতে হবে। যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং বুদ্ধিমত্তা ও সাহসের সাথে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে।

সমাপনী বক্তব্য শেষে জামায়াত আমির সবাইকে নিয়ে দেশ এবং জাতির সার্বিক মুক্তি ও কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে কান্না জড়িত কণ্ঠে দোয়া করেন।

মজলিসে শূরার অধিবেশনে আমিরে জামায়াতের পরিচালনায় ১ম ও ২য় পর্যায়ে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার নির্বাচিত সদস্যগণ শপথ নেন। এছাড়া এটিএম আজহারুল ইসলাম কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির হিসেবে শপথ নেন

আমিরে জামায়াত মজলিসে শূরার সঙ্গে পরামর্শ করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতারা বিগত সেশনে যিনি যে দায়িত্বে ছিলেন সেই দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দেশনা দেন।