Sunday 30 Nov 2025
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সংস্কারের দাবিতে ৫ ঘণ্টা কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ

ইবি করেসপন্ডেন্ট
৩০ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৪৮

ইবি: কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক সংস্কারের দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটক সংলগ্ন কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা।

রোববার (৩০ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত (পাঁচ ঘণ্টা) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন অংশ নেয়।

অবরোধ চলাকালীন সময়ে রাস্তার উভয় দিকে গাছের গুঁড়ি দিয়ে অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। এতে রাস্তার উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বিকেল ৪টার দিকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি উপস্থিত হয়ে আজ থেকেই কাজ শুরুর আশ্বাস দিলে রাস্তা ছাড়েন আন্দোলনকারীরা।

বিজ্ঞাপন

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোকনুজ্জামান, কুষ্টিয়ার সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুরুল করিম, ঝিনাইদহের সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান, উপ-বিভাগ প্রকৌশলী জিয়া উদ্দিন ও সহকারী প্রকৌশলী ও স্টাফ অফিসার আহসানুল কবির এবং শৈলকূপা উপজেলার এসিল্যান্ড এস এম সিরাজুল সালেহীনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আন্দোলনকারীর বলেন, ইবি থেকে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ পর্যন্ত মহাসড়কের বড় অংশ এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও যাত্রীরা মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে এই রাস্তায় চলাচল করছেন। বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীরা দাবি জানালেও সংস্কারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমরা দুই জেলার প্রশাসনকে বাধ্য করে আমাদের যৌক্তিক দাবি আদায় করে নিতে চাই। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।

তাদের দাবি, আজকে থেকেই খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কের সংস্কার কাজ শুরু করতে হবে। কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ জেলার প্রতিনিধি যে আশ্বাস দিয়েছেন তার দৃশ্যমান পদক্ষেপ না দেখলে পেলে আগামী সপ্তাহে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি চলবে।

কুষ্টিয়ার সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুরুল করিম, কুষ্টিয়া সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং এটা চলমান থাকবে। আর টেন্ডারের মাধ্যমে পুরোপুরি সংস্কার কাজ, সেটিও তারপরে যথাসময়ে শুরু হবে। ততদিন পর্যন্ত আমাদের যে যেই অংশ রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত আছে, সেই অংশগুলো আমাদের যতদূর আমাদের সাধ্যমতো আমরা চেষ্টা করব দ্রুত সম্ভব।

ঝিনাইদহের সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান ভোগান্তি সৃষ্টিতে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, কালকে থেকে দুইটা করে ট্র্যাকের মাধ্যমে যতদিন মূল কাজ শুরু না হয় ততদিন পর্যন্ত আমাদের মেরামত কাজ চলবে। এছাড়া নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আপডেট জানাবো। যেসব শিক্ষার্থীরা মনে কষ্ট পেয়েছেন এজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে আমরা এসব বিষয়ে আরও সিরিয়াস হবো।

এদিকে সড়ক অবরোধ করায় ভোগান্তিতে পড়েন দূরদূরান্তের যাত্রীরা। তারা বলেন, সড়কের অবস্থা আসলেই বেহাল। তবে রাস্তা আটকে দিলে দূরের যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এই বিষয়টিও বিবেচনায় আনা উচিত।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর