নীলফামারী: নীলফামারীর ডিমলায় ক্লাসরুমের ভেতর সিনিয়র শিক্ষার্থীর হাতে জুনিয়র শিক্ষার্থীর ছুরিকাঘাতের ঘটনায় সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ করেছে শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ। বর্তমানে আহত স্কুলছাত্র রংপুর মেডিকেলে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
রোববার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ মানববন্ধন, সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি পালন করে।
শিক্ষার্থীদের মিছিল ডিমলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্মৃতি অম্লান চত্বরে দুই ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ করে। পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
গত ২৬ নভেম্বর বার্ষিক পরীক্ষা চলাকালে বেঞ্চে বসাকে কেন্দ্র করে ডিমলা জেলা পরিষদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি কক্ষে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র নাছিম দশম শ্রেণির আল আমিনের পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দেয়।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য রাব্বিকে তারা আটক করলেও একজন শিক্ষকের সহযোগিতায় বহিরাগত একটি সন্ত্রাসী দল তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের দাবি অভিযুক্ত নাছিম ও তার সহযোগীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বহিরাগত প্রবেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও আহত আল-আমিনের পূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্ব রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্রহণের দাবিও করেন তারা।
আল আমিনের বাবা নুর ইসলাম বলেন, ‘খুব কষ্ট করে ছেলেকে বড় করেছি। সেদিন একটা কল পেয়ে পরিবারের লোকজন ছুটে যায়। আমার ছেলের কি অবস্থা করেছে আমাকে সেটা কেউ দেখতে দেয়নি। আমার ছেলের অবস্থা খুব একটা ভালো না। আমি চাই সব দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।’
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘পরিস্থিতি শান্ত করতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলতেছি।’ এ সময় আল-আমিনের চিকিৎসার সকল ব্যয়ভার উপজেলা প্রশাসন বহন করবে বলে ঘোষণা দেন ইউএনও।
ডোমার-ডিমলা সার্কেল এএসপি নিয়াজ মেহেদী জানান, যৌথ বাহিনী গোয়েন্দা বিভাগের সহযোগিতায় আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এই ঘটনার রাব্বি নামের এক সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে গ্রেফতারের সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।