রংপুর: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ (সদর) আসন থেকে আবারও প্রার্থী হচ্ছেন তৃতীয় লিঙ্গের আইকন আনোয়ারা ইসলাম রানি। গতবারের মতো এবারও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়বেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। শনিবার (২৯ নভেম্বর) নাগরিক প্ল্যাটফর্মের রংপুর আঞ্চলিক পরামর্শ সভায় রানি বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি জিতবই। রংপুরের মানুষ দল নয়, নতুন নেতৃত্ব চায়। আমি তাদের পাশে আছি।’
২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঈগল প্রতীকে ২৩,৩২৬ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন রানি। বিজয়ী জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জি এম কাদের পেয়েছিলেন ৮১,৮৬১ ভোট। তৃতীয় লিঙ্গের কোনো প্রার্থীর এত ভোট পাওয়া দেশের ইতিহাসে প্রথম ছিল এবং রংপুর বিভাগে এখনো রেকর্ড।
কোনো দলের মনোনয়ন নেবেন না, আবারও স্বতন্ত্র নির্বাচন করবেন জানিয়ে রানি জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়নের প্রস্তাব পেয়েও তা প্রত্যাখ্যান করেছেন রানি। তিনি বলেন, ‘গতবারও স্বতন্ত্র ছিলাম, এবারও স্বতন্ত্রই থাকব। রংপুরের মানুষ কোনো দলকেই পুরোপুরি পছন্দ করে না। তারা নতুন মুখ চায়। আমি সেই আস্থার প্রতিনিধি।’
সংরক্ষিত নারী আসন বা উচ্চকক্ষের জন্য অপেক্ষা করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রানি স্পষ্ট করেন, ‘আমি সরাসরি নির্বাচনেই বিশ্বাস করি। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের প্রতিনিধিত্ব জনগণের ভোটে হওয়া উচিত, কোটায় নয়।’
নির্বাচনি এজেন্ডা হিসেবে তৃতীয় লিঙ্গের পাশাপাশি শিক্ষা-স্বাস্থ্য-কর্মসংস্থান অন্তর্ভুক্ত থাকবে জানিয়ে রানি বলেন, নির্বাচিত হলে প্রধান অগ্রাধিকার থাকবে রংপুরে বেকারত্ব দূরীকরণে শিল্পায়ন ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি হাসপাতাল ও স্কুলের মানোন্নয়ন, নারী ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা।
তিনি বলেন, ‘আমি শুধু তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী নই, রংপুরের সাধারণ মানুষের প্রার্থী। আমার লড়াই সব বঞ্চিতের জন্য।’
প্রচারণার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রানি জানান, ‘নির্বাচন খুব খরচের। আমার আর্থিক সীমাবদ্ধতা আছে। তবে তফসিল ঘোষণার পর থেকে সব নিয়ম মেনে পুরোদমে মাঠে নামব। জনগণই আমার শক্তি।’
রংপুর-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন নগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু, জামায়াতের মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য বেলাল আহমেদ। এবারও এই আসন থেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জাতীয় পার্টি সূত্রে জানা গেছে।
রংপুরের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রানির এবারের প্রার্থিতা আসনটিকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করে তুলবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশে তিনি আবারও চমক দেখাতে পারেন। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার অপেক্ষায় থাকলেও, রংপুর-৩ আসন এখন থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।