Wednesday 15 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রোহিঙ্গা প্রশ্নে আবারো বিরোধিতা রাশিয়া চীনের


২৫ ডিসেম্বর ২০১৭ ১৪:৪৮ | আপডেট: ১৭ মার্চ ২০১৮ ১৬:৪৮
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা : মিয়ানমারে সামরিক অভিযান বন্ধ, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেওয়া এবং জাতিসংঘের বিশেষ দূত নিয়োগের কথা বলা হয়েছে বৈশ্বিক সংস্থা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে। তবে জাতিসংঘের এমন আহ্বানে আবারো বিরোধিতা করেছে রাশিয়া ও চীনসহ ১০টি দেশ।

জাতিসংঘ থেকে জানা গেছে, ইসলামিক দেশগুলোর জোট ওআইসি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে গত ২৪ ডিসেম্বর রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রস্তাব উত্থাপন করে।

ওআইসির প্রস্তাবে বলা হয়, অনতিবিলম্বে মিয়ানমারে সেনা অভিযান বন্ধ করতে হবে। রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার দিতে হবে। বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের তাদের বসত-ভিটায় ফিরিয়ে নিতে হবে। রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় জাতিসংঘের বিশেষ দূতসহ আন্তর্জাতিক ত্রাণ, সহায়তা ও মানবাধিকার কর্মীদের মিয়ানমারে কাজ করার অনুমতি দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

ওআইসির এই প্রস্তাবের আহ্বানে জাতিসংঘের অধিবেশনে ১২২টি দেশ পক্ষে ভোট দেয়। ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে ২৪ টি দেশ। রাশিয়া, চীন, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন, লাওস, ভিয়েতনামসহ ১০টি দেশ এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়।

পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে হামলা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ জন কর্মীকে হত্যার অভিযোগে চলতি বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইনে সন্ত্রাস নির্মূল কার্যক্রম হাতে নেয়। এতে নিরীহ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর শুরু হয় খুন, ধর্ষণ, হত্যাসহ অমানবিক নির্যাতন। পুড়িয়ে দেওয়া হয় রাখাইনে রোহিঙ্গাদের একের পর এক গ্রাম। যা জাতিগত নিধন এবং গণহত্যায় রূপ নেয়। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

রাখাইনের জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নিধনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। চলতি বছরের ২৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত এসেছেন ৬ লাখ ৫৫ হাজার রোহিঙ্গা। নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে গত ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করে মিয়ানমার। কিন্তু চুক্তি করার দিনেও মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইনের বহু গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়।

সার্বিক পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের মধ্যে এখনো কোনো আন্তরিকতা দেখা যায়নি।

সারাবাংলা/জেআইএল/একে