Friday 02 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘এবার ১৪, ১৮ ও ২৪-এর মতো নির্বাচন মেনে নেওয়া হবে না’

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২ জানুয়ারি ২০২৬ ২৩:২১ | আপডেট: ২ জানুয়ারি ২০২৬ ২৩:২৪

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি: সংগৃহীত

খুলনা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘এবার ১৪, ১৮ ও ২৪-এর মতো আর যেনতেন নির্বাচন মেনে নেওয়া হবে না। যারা এ ধরনের অপকর্মের চিন্তা করবে, তাদের জন্য স্পষ্ট বার্তা—মানুষ রক্ত দিয়ে পরিবর্তন এনেছে; প্রয়োজনে আবারও ত্যাগের মাধ্যমে সেই পরিবর্তন সফল করা হবে।’

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার লাইন বিল পাবলা পূজা মন্দিরে আয়োজিত এলাকার হিন্দু ধর্মালম্বী সদস্য সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এ জাতি অতীতে কাউকে ছাড় দেয়নি, আগামীতেও দেবে না। ছাত্র-জনতা যেমন বুক চিতিয়ে লড়াই করে নিজেদের অধিকার আদায় করেছে, তেমনি ভবিষ্যতেও অধিকার আদায়ে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, তাদের লড়াই ফ্যাসিবাদ ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে-পুরোনো হোক বা নতুন, ফ্যাসিবাদের অস্তিত্ব যতদিন থাকবে, লড়াই ততদিন চলবে।

বিজ্ঞাপন

স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, কিশোর-তরুণ-যুবকসহ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যেন শান্তিতে নিশ্বাস নিতে পারে-এমন একটি দেশ রেখে যেতে চান তারা। চাঁদাবাজমুক্ত ও দখলবাজমুক্ত সমাজ গড়তে আল্লাহর আইন ও সৎ লোকের শাসনের বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি আগামী নির্বাচনে ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, ইসলামই একমাত্র ব্যবস্থা যা সব জাতি, ধর্ম ও বর্ণের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করেছে। জনগণ যদি জামায়াতে ইসলামীর হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, তবে একটি ইসলামিক কল্যাণ রাষ্ট্রে সকল সামাজিক, মৌলিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অধিকার ভোগ করবে বলে তিনি দাবি করেন। অতীতে বিভিন্ন সময়ে অমুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী পাশে দাঁড়িয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

২০০১ সালে এমপি নির্বাচিত হওয়ার স্মৃতিচারণ করে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করেছিলেন। সে সময় ডুমুরিয়া-ফুলতলা এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও সড়কসহ ৫০০ কোটির বেশি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। তবে পরবর্তী সময়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে আবারও ওই জনপদ সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিল ডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা এ অঞ্চলের মানুষের জন্য বড় সমস্যা। অতীতে খাল খনন ও নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, সুযোগ পেলে বিল ডাকাতিয়ার পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী সমাধানসহ অবহেলিত এলাকার বাকি কাজ সম্পন্ন করবেন।

সমাবেশে হিন্দু কমিটির সদস্য কুমারেশ কুমার মন্ডলের সভাপতিত্বে ও শ্রীদাম কুমার মন্ডলের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস এবং জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা। আরও বক্তব্য দেন গুটুদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তুহিনুল ইসলাম, হরিণটানা থানা আমির মাওলানা আব্দুল গফুর, লিটন হোসেন ও দিবাশীষ মল্লিক।

এর আগে বিকেল ৪টায় ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খামারবাড়ীতে আরেকটি হিন্দু ধর্মালম্বী সদস্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সারাবাংলা/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর