চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে একইসঙ্গে বিএনপির মনোনীত দুই প্রার্থী গোলাম আকবর খোন্দকার ও গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন নির্বাচন কর্মকর্তা। এর ফলে আপাতত উভয় প্রার্থী বিএনপির হয়ে নির্বাচনের মাঠে থাকলেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম-৬ আসনে মনোনয়ন পত্র যাচাইবাছাইয়ের পর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা উভয়ের মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করেন।
এদিন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চট্টগ্রাম-৬ আসনের পাশাপাশি চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) ও চট্টগ্রাম- ১২ (পটিয়া) আসনের মনোনয়ন পত্র যাচাইবাছাই করা হয়। এছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়া উদ্দিনের কার্যালয়ে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও নগরীর একাংশ) এবং চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও নগরীর একাংশ) আসনের মনোনয়ন পত্র যাচাইবাছাই করা হয়।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে মনোনয়ন পত্র দাখিল করা পাঁচজনকেই বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এরা হলেন- বিএনপির গোলাম আকবর খোন্দকার ও গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর মো. শাহজাহান মঞ্জু, গণসংহতি আন্দোলনের নাছিরউদ্দিন তালুকদার ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ ইলিয়াছ নূরী।
রাউজানে বিএনপি প্রথমে দলটির সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ঘোষণা করে। কিন্তু শেষ মুহুর্তে তাকে বাদ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না দিয়ে মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকারকেও। এর ফলে উভয় প্রার্থীই মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করে দাখিল করেন। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ে একজনকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করে আরেকজনকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেবে দল।
গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি হওয়া সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই। তাদের বাড়ি রাউজান উপজেলায়। ওই আসন থেকে গিয়াস কাদের আগেও দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি দেশ ছেড়ে গিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি দেশে ফেরেন।
অন্যদিকে গোলাম আকবর খোন্দকার চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক। একই কমিটিতে তিনি দীর্ঘদিন সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজপথে সক্রিয় থাকায় তিনি বেশ কয়েকবার কারাবরণ করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাউজান উপজেলায় বিএনপিতে গিয়াস কাদের ও গোলাম আকবরের অনুসারী হিসেবে দুটি ধারা তৈরি হয়। গত এক বছরেরও বেশিসময় ধরে তাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘাতে এক ডজনেরও বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটে। এমনকি গোলাম আকবর রাউজানে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে রক্তাক্ত হয়েছিলেন।
এদিকে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে মনোনয়ন পত্র দাখিল করা ৯ জনের মধ্যে তিনজনের বাতিল করা হয়েছে। বাছাইয়ে টিকেছেন বিএনপির হুম্মাম কাদের চৌধুরী, জামায়াতের এটিএম রেজাউল করিম, জাতীয় পার্টির মো. মেহেদী রাসেদ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মুহাম্মদ ইকবাল হাছান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুল্লাহ আল হারুন এবং খেলাফত মজলিসের মো. আবুল কালাম।
বাতিল হওয়া তিনজন হলেন- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রমোদ বরণ বড়ুয়া, গণঅধিকার পরিষদের মো. বেলাল উদ্দীন এবং এবি পার্টির মো. আব্দুর রহমান। এদের মধ্যে সিপিবি ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীর দলীয় মনোনয়ন সঠিক না হওয়ায় এবং এবি পার্টির প্রার্থীর সমর্থকের সই ও আয়কর সংক্রান্ত তথ্য না থাকাসহ বিভিন্ন ত্রুটির কারণে বাতিল করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের তথ্যে জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া ১১ জনের মধ্যে এলডিপিসহ ৪ প্রার্থীকে বাতিল করা হয়েছে। বৈধ ঘোষিত ৭ জন হলেন- বিএনপির মোহাম্মদ এনামুল হক, জামায়াতের মোহাম্মদ ফরিদুল আলম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এস এম বেলাল নূর, জাতীয় পার্টির ফরিদ আহম্মদ চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ আবু তালেব হেলালী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ছৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু ও গণঅধিকার পরিষদের এমদাদুল হাসান।
বাকি ৪ জনের মধ্যে ঋণখেলাপী হওয়ায় এলডিপির ইয়াকুব আলী, দলীয় মনোনয়ন সঠিক না হওয়ায় জাতীয় পার্টির সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং দ্বৈবচয়ন প্রক্রিয়ায় যাচাইয়ের পর এক শতাংশ ভোটারের সই সঠিক না পাওয়া দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ সাদাত আহমেদ ও মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইনের মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও নগরীর আংশিক) আসনে বিএনপির আসলাম চৌধুরী, জামায়াতের আনোয়ার ছিদ্দিক, সিপিবির মো. মছিউদ্দৌলাসহ ১০ জন মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিলেন, যাদের সবাই বাছাইয়ে টিকেছেন।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও নগরীর একাংশ) আসনে বিএনপির মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, জাতীয় পার্টির একাংশের সভাপতি আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, খেলাফত মজলিসের নাসির উদ্দিন মাহমুদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতি উল্লাহ নূরী এবং স্বতন্ত্র হিসেবে বিএনপি নেতা এস এম ফজলুল হক ও সাকিলা ফারজানাসহ ১০ জন মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিলেন। এদের মধ্যে মীর হেলালসহ ৬ জন টিকেছেন।
জাতীয় পার্টির একাংশের সভাপতি ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং স্বতন্ত্র তিনজন এসএম ফজলুল হক, ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা ও মোহাম্মদ ইমাম উদ্দিন রিয়াদের মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হেদায়েত উল্যাহ জানিয়েছেন, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ মনোনয়ন পত্রের সঙ্গে দলীয় মনোনয়নের যে চিঠি জমা দিয়েছেন, তার স্বাক্ষরের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো দলীয়ভাবে পাঠানো মনোনয়নের তালিকায় সইয়ের গরমিল পাওয়া গেছে। আর তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এক শতাংশ ভোটারের যে সই জমা দিয়েছেন তাতে গরমিল পাওয়া গেছে।