টি-২০ বিশ্বকাপের বাকি আর মাত্র এক মাস। স্কোয়াড ঘোষণা, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি; এসব নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে দলগুলো। বাংলাদেশও ঠিক একদিন আগে ব্যস্ত ছিল এসব নিয়েই। তবে ৩ জানুয়ারি আইপিএলের এক ঘোষণা এলোমেলো করে দিয়েছে সবকিছুই। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে মোস্তাফিজকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। আর এতেই বাংলাদেশ-ভারত দ্বন্দ্ব পৌঁছেছে চরম। গুঞ্জন উঠেছে, ভারতে হতে যাওয়া বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক দিতে পারে বাংলাদেশ।
আইপিএলের ১৮ বছরের ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে দেখা যায়নি। ভারতের বেশ কয়েকটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন, ব্যক্তির প্রতিবাদের মুখে বিসিসিআই কলকাতা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়, মোস্তাফিজকে যেন ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরেই মোস্তাফিজকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেয় কলকাতা।
মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ঘোষণার পর থেকেই ফুঁসে উঠেছে বাংলাদেশ। ক্রিকেট ভক্ত-অনুরাগি থেকে শুরু করে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিরা; সবার মুখেই এখন ‘বয়কটের’ ডাক। বাংলাদেশের চ্যানেলগুলোতে এবারের আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধের দাবি উঠেছে সবার প্রথমেই। একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমগুলোকে আইপিএলের খবরও প্রচার না করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে হতে যাওয়া বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের ৪টি ম্যাচ নিয়েও জেগেছে শঙ্কা। অনেকেই বলছেন, মোস্তাফিজের নিরাপত্তা যদি দেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে পুরো বাংলাদেশ দল, সমর্থক ও সাংবাদিকদের কীভাবে নিরাপত্তা দেবে ভারত?
অনেকেই দাবি করেছেন, পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশের সব ম্যাচ শ্রীলংকায় সরিয়ে নেওয়া হোক। বিসিবির পক্ষ থেকে গতকাল আভাস দেওয়া হয়েছে, ভারতে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোর ব্যাপারে আইসিসির সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
যদি শেষ পর্যন্ত ভারতের মাটিতেই খেলেতে যেতে হয় বাংলাদেশকে, তাহলে ব্যাপারটা যে বেশ জটিল আকার ধারণ করবে সেটা বলাই বাহুল্য। বাংলাদেশ কি তখন সত্যিই পুরো বিশ্বকাপই বয়কট করবে?