Tuesday 20 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রাজবাড়ীতে রমজানকে ঘিরে অস্থিরতা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:০৬
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রাজবাড়ী: পবিত্র রমজান মাসে রাজবাড়ী জেলার বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এরমধ্যে লেবু, শসা, বেগুন, মাছ ও মাংসের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এ ঘটনায় সীমিত আয়ের মানুষদের পোহাতে হচ্ছে অশেষ দুর্ভোগ।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই শহরের বড়বাজার, নতুন বাজার ও শ্রীপুর বাজারে সাপ্তাহিক কেনাকাটার ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে বাজারে গিয়ে দ্রব্যমূল্য দেখে হতাশা আর ক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ ক্রেতারা।

শহরের বড়বাজারের খুচরা দোকানগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, ছোট আকারের লেবু প্রতি হালি ৪০ টাকা, মাঝারি আকারের লেবু ৬০ টাকা ও বড় আকারের লেবু ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুন প্রকারভেদে কেজি প্রতি ৭০ টাকা ও ৮০ টাকা এবং শশা কেজি প্রতি ৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, পেঁয়াজ প্রকারভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা, মরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, আদা ১৪০ টাকা ও রসুন ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মাংসের বাজারে দেখা গেছে, ব্রয়লারের দাম বেড়ে বর্তমানে কেজি প্রতি ২০০ টাকা, সোনালি মুরগি কেজি প্রতি ২৯০ টাকা, লেয়ার মুরগি কেজি প্রতি ২৯০ টাকা, গরুর মাংস কেজি প্রতি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজি প্রতি ১১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আরও বেড়েছে সবধরণের মাছের দাম।

ক্রেতা মেহেদি হাসান বলেন, ‘প্রত্যেকটা জিনিসেরই দাম বেড়েছে। রমজানকে সামনে রেখে লেবু এখন বিলাসী পণ্যের মতো হয়ে গেছে। রমজানে শরবতে অনেকেই লেবু ব্যবহার করে, সেই লেবু এখন হালি প্রতি ৮০ টাকা।’

আরেক ক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অন্যান্য দেশে রমজানে পণ্যের দাম কমে বা স্থিতিশীল থাকে। আমাদের দেশে ঠিক উল্টোটা দেখা যায়। কিছু ব্যবসায়ী রমজানকে অতি মুনাফার মাস হিসেবে নেয়। আলু ছাড়া সকল কিছুর দাম বেড়েছে। বাজারে কার্যকর মনিটরিং তেমন না থাকায় সুযোগসন্ধানীরা সহজেই দাম বাড়াতে পারে।’

খুচরা বিক্রেতা মালেক ও আতাহার বলেন, ‘পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে। শীতের মৌসুম শেষ হওয়াতে বাজারে আমদানি বেশ কম। রমজান শুরুর আগে থেকেই চাহিদা বেড়েছে। পাইকারি দামে চাপ পড়েছে। আমরা তো নিজেরা দাম ঠিক করি না, আড়তের দামের ওপর নির্ভর করতে হয়। আমরা যেভাবে কিনি, তার থেকে একটু লাভে বিক্রি করি।’

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, রাজবাড়ী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বাজারে লেবুর আমদানি এখন অনেক কম। এখন লেবুর সিজন না, এজন্য দামটা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা দাম যেন স্বাভাবিক থাকে এবং নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আর্থিক জরিমানাসহ অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।’

এ দিকে, বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রমজানে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন আইন বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন থেকে রাজবাড়ীর বাজারগুলোতে বিভিন্ন ইফতারির দোকান, মিষ্টান্নের দোকান এবং অন্যান্য দোকানে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। মোবাইল কোর্টে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুর রহমান ও শাহেদ খান।

জানা গেছে, মোবাইল কোর্ট অভিযানে রেলগেট এলাকার হোসেন মিষ্টান্ন ভান্ডারকে ক্ষতিকর হাইড্রোজেনেটেড তেল দিয়ে জিলাপি ভাজা ও পোড়া তেল দিয়ে ইফতার সামগ্রী ভাজার অভিযোগে পাঁচ হাজার টাকা, খবরের কাগজে চপ প্যাকেজিং ও সরবরাহ করার অভিযোগে মোল্লার চপের হোটেলকে এক হাজার টাকা ও রসগোল্লার পাত্রে মশা-মাছি পাওয়ায় এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য পণ্য সংরক্ষণ করার অভিযোগে শংকর মিষ্টান্ন ভান্ডারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় নিষিদ্ধ হাইড্রোজেনেটেড তেল ও পোড়া তেল শনাক্ত করে বিনষ্ট করা হয়।

সারাবাংলা/এআর