টাঙ্গাইল: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহনকারী প্রার্থীরা হলফনামা পেশ করেছেন। এর মধ্যে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী লাবিব গ্রুপের চেয়ারম্যান শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল বছরে ৩ কোটি টাকার বেশি সম্মানি পান। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এসে বিদেশি নাগরিকত্ব ছেড়েছেন তিনি। অপরদিকে বিএনপি প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানের চেয়ে তার স্ত্রীর সম্পদ বেশি এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান শিক্ষকতা দিয়েই সংসার চালান।
বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ সালাউদ্দিনের
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা হলফনামা পেশ করেছেন। এর মধ্যে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী লাবিব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল বছরে ৩ কোটি টাকার বেশি সম্মানী পান। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এসে বিদেশি নাগরিকত্ব ছেড়েছেন তিনি। আর বিএনপি প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানের চেয়ে তার স্ত্রীর সম্পদ বেশি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান শিক্ষকতার বেতনে সংসার চালান।
সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামায় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলার বিষয়ে উল্লেখ করেছেন। একটি মামলা খারিজ হয়েছে, অন্য মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। তিনি স্নাতক পাস এবং পেশা ব্যবসা। তার আয়ের উৎস বাড়ি ভাড়া থেকে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। শেয়ার সঞ্চয়পত্র থেকে আয় ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। নিজস্ব ব্যবসা থেকে সম্মানী পান ২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং ব্যাংকের বোর্ড মিটিং থেকে পান ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
নিজের নামে নগদ আছে ১২ কোটি ৯১ লাখ টাকা, স্ত্রীর নামে আছে ৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। ব্যাংকে জমা রয়েছে ৩১ লাখ ১৫ হাজার টাকা, স্ত্রীর নামে রয়েছে ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। তার নিজের নামে কোনো গাড়ি নেই। স্ত্রীর নামে রয়েছে ৩ কোটি ২২ লাখ টাকার গাড়ি। ৮০ তোলা স্বর্ণ রয়েছে তার। এ ছাড়া স্ত্রীর নামে রয়েছে ৮০ ভরি স্বর্ণ ও ৪ সেট হিরার গয়না। ২০ লাখ টাকার আসবাব রয়েছে নিজের নামে, স্ত্রীর রয়েছে ৫ লাখ টাকার। তার একটি পিস্তল ও একটি শটগান রয়েছে। উত্তরাধিকার সূত্রে তার ৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকার সম্পত্তি রয়েছে, স্ত্রীর রয়েছে ৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকার সম্পত্তি। অস্থাবর সম্পত্তি অর্জনকালীন মূল্য ৮৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা, স্ত্রীর ৭০ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
তাছাড়া ৫৪৬ শতাংশ কৃষিজমি রয়েছে তার। স্ত্রীর নামে রয়েছে ৩৫৩ শতাংশ জমি। নিজের নামে ৩০৮৮ শতাংশ অকৃষি জমি রয়েছে। স্ত্রীর রয়েছে ১৩৭ শতাংশ অকৃষি জমি। নিজের নামে ঢাকার বারিধারা ও সখীপুরে দুটি বাড়ি রয়েছে। টাঙ্গাইলে স্ত্রীর নামে ৪টি বাড়ি রয়েছে। তাছাড়া ঢাকায় রয়েছে ৩টি বাড়ি। স্থাবর সম্পত্তির মূল্য ৬৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে মোট সম্পদ আছে ৫৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
আযম খানের চেয়ে স্ত্রীর সম্পদ বেশি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান পেশায় আইনজীবী। হলফনামায় তিনি তার আয়ের উৎস উল্লেখ করেননি। তার বিরুদ্ধে ১০টি মামলা হয়েছে। দুটি মামলা আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে। একটি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন। বাকি সাতটি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। অস্থাবর সম্পদ হিসেবে তার নগদ ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর ১১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। ঢাকা ব্যাংকে জমা রয়েছে ৬ লাখ ২২ হাজার টাকা, অগ্রণী ব্যাংকে স্ত্রীর জমা রয়েছে ৩ লাখ ২২ হাজার টাকা। বন্ড ও শেয়ার রয়েছে ১১ লাখ ১৯ হাজার টাকা, স্ত্রীর রয়েছে ১১ লাখ ৯৯৬ টাকা। ব্যাংকে স্থায়ী আমানত রয়েছে ৫৪ লাখ টাকা, স্ত্রীর রয়েছে ৮৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ৪৩ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি ও ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের একটি প্রাইভেট কার রয়েছে। ২০ লাখ টাকা মূল্যের ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে। এ ছাড়া স্ত্রীর রয়েছে ২১ ভরি স্বর্ণালংকার। অস্থাবর সম্পত্তির বর্তমান মূল্য ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর ১ কোটি ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কালিয়াকৈরে স্ত্রীর নামে ৯২ শতাংশ কৃষিজমি রয়েছে। সখীপুরের ঘেচুয়ায় ২৬৩ শতাংশ জমি রয়েছে। ৩ কাঠা জমির ওপর বাড়ি রয়েছে। নিজের নামে ঢাকার বিজয়নগরে দুটি বাণিজ্যক ভবন রয়েছে।
শিক্ষকতায় সংসার শফিকুলের
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খান পেশায় শিক্ষক। তিনি এমএ পাস এবং স্ত্রী গৃহিণী। হলফনামায় তিনি তিনটি মামলার কথা উল্লেখ করলেও সবকটিতেই খালাস পাওয়ার তথ্য দিয়েছেন। শিক্ষকতার পেশা থেকে আয় ৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। মূলত বেতনের টাকা দিয়েই তিনি চলেন। কৃষি থেকে আয় ২৩ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নগদ রয়েছে ২১ লাখ টাকা। তার ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকার গৃহঋণ রয়েছে।