টি-২০ বিশ্বকাপের বাকি মাত্র এক মাস। অনেক আগেই প্রকাশ হয়েছে টুর্নামেন্টের পূর্ণাঙ্গ সূচি, অপেক্ষা শুধু এখন খেলা মাঠে গড়ানোর। তবে ঠিক এই সময়ই লেগে গেল বড় এক জট। মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বাংলাদেশ। আর এতেই বড় জটিলতার মুখোমুখি আইসিসি। বাংলাদেশ যদি বিশ্বকাপে ‘ওয়াকওভার’ দেয়, তাহলে ঠিক কেমন হতে পারে পরিস্থিতি?
নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারত থেকে নিজের গ্রুপ পর্বের সবগুলো ম্যাচ শ্রীলংকায় নেওয়ার আবেদন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। কলকাতায় ৩ ম্যাচ ও মুম্বাইয়ে একটি ম্যাচ খেলার কথা বাংলাদেশের। বাংলাদেশ চাইছে, গ্রুপ পর্ব তো বটেই, পরের রাউন্ডে উঠলে পাকিস্তানের মতো তাদের সব ম্যাচও যেন শ্রীলংকায় সরিয়ে নেওয়া হয়।
যদি শেষ পর্যন্ত আইসিসি বাংলাদেশের ম্যাচের ভেন্যু পরিবর্তন না করে, তাহলে বাংলাদেশের সামনে খোলা থাকবে দুটি পথ। হয় তাদের ভারতের মাটিতেই খেলতে হবে, নাহলে দিতে হবে ‘ওয়াকওভার’। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি মাঠে না নেমেই পূর্ণ পয়েন্ট পাবে।
আইসিসি ইভেন্টে নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে কোন দলের ওয়াকওভারের নতুন নয়। ১৯৯৬ ওয়ানডে বিশ্বকাপে শ্রীলংকার কলম্বোর সেন্ট্রাল ব্যাংকে আত্মঘাতী বোমা হামলার পর অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল দেশটিতে বিশ্বকাপ খেলতে যায়নি নিরাপত্তার ঝুঁকি আছে বলে। ওয়েস্ট ইন্ডিজও ঠিক একই কারণে সেবার শ্রীলংকায় যায়নি। নির্ধারিত সময়ে মাঠে হাজির না থাকায় ওই দুই ম্যাচে আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী স্বাগতিক শ্রীলংকাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। দুটি ম্যাচেই ওয়াকওভার থেকে পূর্ণ পয়েন্ট পেয়ে একরকম কোনো ম্যাচ না খেলেই কোয়ার্টার ফাইনালে চলে যায় শ্রীলংকা।
২০০৩ বিশ্বকাপেও এমন ঘটনার সাক্ষী হয়েছিল ক্রিকেট। সেবার দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়া ছিল যৌথ আয়োজক।জিম্বাবুয়ে সরকারের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে ইংল্যান্ড দলকে সেখানে না যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ইংল্যান্ড ম্যাচটি দক্ষিণ আফ্রিকায় সরিয়ে আনার অনুরোধ জানায়, কিন্তু আইসিসি তা প্রত্যাখ্যান করে। ফলে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয় এবং নিয়ম অনুযায়ী জিম্বাবুয়ে পূর্ণ পয়েন্ট পায়।
ওই বিশ্বকাপেই নিউজিল্যান্ডও নিরাপত্তার শঙ্কায় কেনিয়ায় গিয়ে খেলতে অপরাগতা জানায়। ফলে তাদেরও ওয়াকওভার পয়েন্ট ছাড়তে হয়।
২০০৯ টি-২০ বিশ্বকাপে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে ভিসা না পাওয়ার আশংকা থাকায় জিম্বাবুয়ে স্বেচ্ছায় ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আসর থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়। তাদের জায়গায় শেষ পর্যন্ত স্কটল্যান্ডকে নিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপ আয়োজন করে আইসিসি।
বাংলাদেশের ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত কী অপেক্ষা করছে, সেটা জানা যাবে আইসিসির পরবর্তী সিদ্ধান্তের পরেই।