ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অজ্ঞাত ১১৪ শহিদের মরদেহ উত্তোলন করার করার পর ডিএনএ নমুনার মাধ্যমে ৮ জন শহিদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রায়েরবাজার শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থানে এই মরদেহ উত্তোলন ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠানে সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ এ তথ্য জানিয়েছেন।
শনাক্ত হওয়া ৮ জন হলেন- শহিদ ফয়সাল সরকার, শহিদ পারভেজ বেপারী, শহিদ রফিকুল ইসলাম (৫২), শহিদ মাহিম (২৫), শহিদ সোহেল রানা, শহিদ আসানুল্লাহ, কাবিল হোসেন ও রফিকুল ইসলাম (২৯)।
সিআইডি প্রধান বলেন, ‘এ পর্যন্ত অজ্ঞাতনামা শহিদদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের মধ্য থেকে ৯টি পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাপ্ত ডিএনএ নমুনার মাধ্যমে এরই মধ্যে ৮ জন অজ্ঞাতনামা শহিদের পরিচয় সফলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট মৃতদেহের পরিচয় শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অনেকের আত্মীয়স্বজন বিদেশে রয়েছে, তারা দেশে এসে পরিচয় শনাক্ত যেন করতে পারেন আমরা সেই ব্যবস্থা করে রাখছি।’
১১৪ জনের মধ্যে কতজন গুলিবিদ্ধ ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেকেই গুলিবিদ্ধ ছিল। আমরা অনেক মরদেহের ভেতরে বুলেটের স্প্লিন্টার পেয়েছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আরও পরে জানা যাবে।’
ছিবগাত উল্লাহ বলেন, ‘রায়েরবাজার কবরস্থানে অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করে গত ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মৃতদেহ উত্তোলন ও ফরেনসিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
প্রতিটি মৃতদেহ উত্তোলনের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং ফরেনসিক চিকিৎসকগণ ময়নাতদন্ত পরিচালনা করেন। সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ও কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘সমগ্র কার্যক্রম আইন, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে পরিচালিত হয়েছে। যাতে মর্যাদা, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত থাকে। এই উদ্যোগের ফলে নিখোঁজ শহিদদের পরিচয় নির্ধারণ, পরিবারগুলোর অনিশ্চয়তা দূরীকরণ এবং ভবিষ্যৎ বিচারিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণ সংরক্ষণ সম্ভব হয়েছে।’