Tuesday 06 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঢাকার বাতাস আজ ‘অস্বাস্থ্যকর’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৩৫ | আপডেট: ৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:০১

ছবি: সারাবংলা

ঢাকা: জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের ফলে বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণ এখন এক ভয়াবহ সংকটে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে মেগাসিটি ঢাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে এই দূষণের কবলে পড়ে ধুঁকছেন। যদিও সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে ঢাকার বায়ুমানের কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল, তবে সপ্তাহের শুরুতেই সেই স্বস্তি উধাও হয়ে গেছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) ঢাকার বাতাস আবারও নাগরিকদের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ৫ জানুয়ারি সকাল ৯টায় ঢাকার বাতাসের মান অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় ফিরে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

আইকিউএয়ারের প্রকাশিত বৈশ্বিক তালিকায় দেখা গেছে, আজ ২০৬ স্কোর নিয়ে বায়ুদূষণে বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল। সেখানকার বাতাসের মান নাগরিকদের জন্য ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি, যার স্কোর ১৮৩। এর ঠিক পরেই ১৭৭ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চীনের সাংহাই শহর। অন্যদিকে ১৫৮ স্কোর নিয়ে এই তালিকায় ঢাকা আজ ১১তম অবস্থানে রয়েছে। স্কোর অনুযায়ী ঢাকার এই বাতাসের মানও নাগরিকদের স্বাস্থ্যের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগজনক।

বায়ুমানের মানদণ্ড অনুযায়ী, আইকিউএয়ার স্কোর শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত থাকলে তাকে ‘ভালো’ ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোরকে ‘মাঝারি’ এবং ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে স্কোর ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে থাকলে তা সবার জন্যই ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা আজ ঢাকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

এ ছাড়া স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকলে তাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলা হয়। এই বিশেষ পরিস্থিতিতে শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের যতটা সম্ভব ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও বাইরের শারীরিক পরিশ্রম বা দীর্ঘকালীন অবস্থান সীমাবদ্ধ করা জরুরি।

সাধারণত পাঁচটি প্রধান দূষককে ভিত্তি করে বায়ুর মান বা একিউআই নির্ধারণ করা হয়। এগুলো হলো বস্তুকণা যেমন পিএম ২.৫ ও পিএম ১০, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড এবং ওজোন। এই দূষণকারী উপাদানগুলো দীর্ঘমেয়াদে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করে। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশু এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই বাতাস মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়ায়। বায়ুদূষণের এই প্রভাবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যানসার এবং ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজের মতো জটিল রোগে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বায়ুদূষণ এখন এক বৈশ্বিক মহামারি। প্রতি বছর সারা পৃথিবীতে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ কেবল দূষিত বাতাসের কারণে অকাল মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন। শ্বাসযন্ত্রের তীব্র সংক্রমণ থেকে শুরু করে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হওয়ার পেছনে বায়ুদূষণ সরাসরি ভূমিকা রাখছে। ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে নির্মাণকাজ, যানবাহনের ধোঁয়া এবং কলকারখানার নির্গমন নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এই স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আজকের এই অস্বাস্থ্যকর বায়ুমান নগরবাসীর জন্য আবারও একটি সতর্কবার্তাই বহন করছে।

সারাবাংলা/এফএন/ইআ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর