Tuesday 06 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নীলফামারীতে কৃষকদের ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা ও হাঁসখেলা অনুষ্ঠিত

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:১৫

পূর্ব ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে আয়োজিত কৃষকদের ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা। 

নীলফামারী: নীলফামারীর ডোমার উপজেলার পাঙ্গা মটকপুর ইউনিয়নের মেলাপাঙ্গা পূর্ব ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও কৃষক সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার আয়োজন করা হয়েছে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষক উন্নয়ন সংঘের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে ছিল লাঠিখেলা, হাঁসখেলা, শিশুদের বিভিন্ন খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. রবিউল ইসলাম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন পাঙ্গা ইউনিয়নের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. এনায়েত কবির।

এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন দিনাজপুর জেলা যুবদলের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. রাকিব হোসেন (রকি), সমাজসেবক মো. রাসেল ইসলাম, বিজয় টেলিভিশন নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক গোলাম রব্বানী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের ওয়ার্ড সভাপতি মো. লোকমান হোসেনসহ অন্যান্যরা।

বিজ্ঞাপন

দিনের শুরুতেই মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বিলুপ্তপ্রায় লাঠিখেলা দেখতে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে সব বয়সী মানুষ ভিড় জমান। ঢোল ও হারমোনিয়ামের তালে তালে লাঠিয়ালদের কৌশলী আঘাত ও ছন্দময় ভঙ্গিমা দর্শকদের মুগ্ধ করে। দীর্ঘদিন পর এমন ঐতিহ্যবাহী খেলা দেখতে পেয়ে অনেকেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এ ছাড়া হাঁসখেলা ও শিশুদের বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। শিশুদের আনন্দ-উল্লাসে পুরো মাঠ মুখরিত হয়ে ওঠে।

খেলা দেখতে আসা শিক্ষার্থী তাহেরা আক্তার ও আরিফ ইসলাম জানান, ‘বাবা ও দাদাদের কাছে এই খেলা সম্পর্কে অনেক গল্প শুনেছি আজ সরাসরি দেখার সুযোগ হলো। খোলামেলা পরিবেশে এমন আয়োজনে সকলেই অনেক আনন্দ পেয়েছি। ঐতিহ্যবাহী এই খেলা অব্যাহত থাকুক এমন প্রত্যাশা তাদের।’

খেলোয়াড় সজিব ইসলাম জানান, ‘বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট ও মোবাইলের ভিড়ে লাঠিখেলাসহ এমন ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো প্রায় বিলুপ্তির পথে। গত ১৫ বছর ধরে আমরা নিয়মিত এই খেলা চালিয়ে যাচ্ছি। এতে যেমন শরীরচর্চা হয়, তেমনি গ্রামের মানুষ বিনোদন ও আনন্দ পায়। এই খেলাগুলোর মাধ্যমেই আমরা আমাদের পুরোনো ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছি। তবে আর্থিক সংকটের কারণে অনেক সময় এ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারি সহায়তা পেলে এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।’

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মো. এনায়েত কবির বলেন, ‘বর্তমান সময়ে অনেকেই মাদক, জুয়া ও মোবাইল আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলার মাধ্যমে মানুষকে সচেতন ও উৎসাহিত করাই আমাদের লক্ষ্য। এ ধরনের খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থাকলে পরিবার ও সমাজে সুস্থ, আনন্দময় পরিবেশ বজায় থাকে।’

আয়োজক রোমান কবীর ও মো. লোকমান বলেন, ‘গ্রামের অনেক অস্বচ্ছল কৃষক আছেন, যারা কাজের চাপে কিংবা আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বিনোদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। তাদের জন্যই মূলত এই কৃষক আনন্দ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আমরা চাই কৃষকেরা যেন কিছু সময়ের জন্য হলেও দুশ্চিন্তা ভুলে আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। এই মেলার মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ঐক্য ও মানসিক প্রশান্তি তৈরি হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আইএসও সনদ পেল বাংলালিংক
৬ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:০৪

আরো

সম্পর্কিত খবর