ইরানের লাগামহীন মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কুর্দি-ইরানি মানবাধিকার সংগঠন হেঙ্গাও।
দেশটির মুদ্রার মূল্য ভয়াবহভাবে কমে যাওয়ার প্রতিবাদে তেহরানের বাজার এলাকা থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভের প্রথম নয় দিনে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ইরানের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
ইরানের মুদ্রা রিয়ালের মান আরও কমে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) প্রতি ডলারে ১৪ লাখ ৮৯ হাজার ৫০০ রিয়ালে দাঁড়িয়েছে, যা বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে প্রায় ৪ শতাংশ পতন।
হেঙ্গাও জানিয়েছে, নিহত ২৫ জনের মধ্যে চারজনের বয়স ১৮ বছরের নিচে। সংগঠনটির দাবি, এক হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অন্যদিকে মানবাধিকার কর্মীদের নেটওয়ার্ক এইচআরএএনএ জানিয়েছে, ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। একই সময়ে গ্রেফতার করা হয়েছে ১ হাজার ২০৩ জনকে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ এখনো বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর কোনো আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে তারা জানিয়েছে, অস্থিরতার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত দুই সদস্য নিহত এবং ডজনের বেশি আহত হয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে উদ্ধৃত হয়ে ইরানের পুলিশ প্রধান আহমাদরেজা রাদান বলেন, ‘বিক্ষোভকারী ও দাঙ্গাকারীদের মধ্যে পার্থক্য টেনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাঙ্গাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। ঘটনাস্থলে বা পরে গোয়েন্দা সংস্থার শনাক্তকরণের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।’
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার (২ জানুয়ারি) হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনী যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায়, তবে তিনি ইরানের জনগণের পাশে দাঁড়াবেন। এর জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, ‘ইরান শত্রুর কাছে মাথা নত করবে না।’
এইচআরএএনএ জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে স্লোগানগুলো কেবল অর্থনৈতিক দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই; এর মধ্যে শাসনব্যবস্থার সমালোচনা ও ন্যায়বিচারের আহ্বানও রয়েছে। দেশের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৭টিতেই বিক্ষোভ হয়েছে এবং তা ছোট শহরগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে।
সরকার একটি ভর্তুকি সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যার আওতায় আমদানিকারকদের জন্য বিশেষ বিনিময় হার বাতিল করে সরাসরি নাগরিকদের নগদ সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে। এই সিদ্ধান্ত ১০ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে ২৯ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে পরিবর্তন করা হয়েছে।