ঢাকা: জামায়াত জোট ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, আমরা যদি মেজরিটি পাই তখন এটা ডিসাইড করতে খুব অসুবিধা হবে না। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, একজন মানুষকে যেভাবে সিকিউরিটি দেওয়া হচ্ছে এতে মানুষের কাছে একটা মেসেজ যাচ্ছে, এটা ঠিক নয়।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের কার্যালয়ে ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক পাওলা পাম্পালোনির সৌজন্য সাক্ষাতের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. তাহের বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেপুটি চিফ ও রাষ্ট্রদূত আমাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আমরা বলেছি বাংলাদেশে একটি ফেয়ার এবং ক্রেডিবল নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। কারণ বিগত ৫৫ বছরে বাংলাদেশে যে ক্রাইসিস তৈরি হয়েছিল তার অন্যতম কারণ ছিল সুষ্ঠু এবং সঠিক নির্বাচনের অভাব। আগামী নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হয় তাহলে ক্রাইসিস শেষ হবে না।
তিনি আরও বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে দেশের সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা অথরিটি যেভাবে একটি দলের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। যেভাবে একটা দলের আনুগত্য দেখাচ্ছে এতে এই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে আগামী নির্বাচন আবার পাতানো নির্বাচন হবে কি না। আমরা মনে করি এ ধরণের পাতানো নির্বাচন বাংলাদেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। আমরা নির্বাচন কমিশন, সরকার এবং সব অথরিটির কাছে আবেদন করি তারা যেন এখনই নিরপেক্ষ হয় এবং দেশকে সেইফ করার জন্য তারা ভূমিকা পালন করে।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে তারা প্রচুর সংখ্যক পর্যবেক্ষক পাঠাবে।
এরপর ওনারা জানতে চেয়েছেন রোহিঙ্গা ইস্যুর কি হবে? আমরা বলেছি ক্ষমতায় গেলে সম্মিলিতভাবে দেশ ও অন্যান্য বিদেশি স্টেক হোল্ডার আছে সকলে মিলে তাদের সিকিউরিটি ডেমোক্রেটিক রাইট স্টাবলিস্ট করার ক্ষেত্রে আমরা ভূমিকা পালন করবো। তারা বলেছেন, সবচেয়ে বেশি ডোনার হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তারা আশা করছেন বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাদের আশ্বস্ত করেছি। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার জন্য যা করার প্রয়োজন জামায়াত করবে।
জামায়াত সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেলে একক পার্টি হিসেবে সরকার গঠন করবে না। আমরা সকলকে নিয়ে সরকার গঠন করার জন্য চেষ্টা করবো। সেটার দুটো পার্ট থাকতে পারে। একটা বিরোধী দলে থাকবে। আর আমরা যেহেতু একটা জোটের মাধ্যমে নির্বাচন করছি, তারা সবাই আমাদের ভেতরে (সরকারে) থাকবে। সেটাও এক ধরণের জাতীয় সরকার হিসেবে দেশ পরিচালনা করব।
জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা কবে নাগাদ পাওয়া যাবে জানতে চাইলে ডা. তাহের বলেন, খুব শিগগিরই (ভেরি সুন)।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি আসছে তার সিকিউরিটি অবশ্যই দরকার। কিন্তু যে হিসেবে প্রজেকশন হয়েছে এখনো যেভাবে প্রজেকশন হচ্ছে এগুলো মানুষকে এক ধরণের মেসেজ দিচ্ছে। এক ধরণের ইমব্যালেন্স তৈরি করেছে। আমার মনে হয় এটা আপনাদের কাছে আমার চেয়ে বেশি খবর আছে। নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড যাকে বলা হয়, সেটা যদি মেইনটেন করতে হয় তাহলে আপনি আমাকে যদি দুটো পুলিশ পাহারায় দেন তাহলে অপরজনকেও দুজন দিতে হবে। অ্যাটলিস্ট মেইন অপোজিশনকে। ট্রিটমেন্টটা ঠিক এরকম হচ্ছে না।