ঢাকা: জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভী বলেছেন, ওপর লেভেলের চাপ আছে বলেই আমাকে ফাঁসানো হয়েছে- বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। আমার প্রশ্ন, ওপর লেভেলের লোক কে? এছাড়া, এসআই ফারুক-কে টাকা না দেওয়ার জন্যই উনি বারবার রিমান্ড চেয়েছে আমার।
বুধবার (৭ জানুয়াররি) এক সংবাদ সম্মেলনে তাহরিমা জান্নাত সুরভী এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, মামলার বাদী সাংবাদিক দুর্জয় যখন মামলা দায়ের করে, তখনও শুনেছি ওপর লেভেলের চাপ আছে। অথচ, কোর্টে ম্যাজিস্ট্রেট যখন প্রশ্ন করল, এক নম্বর বিবাদীর বিরুদ্ধে আপনার কাছে কোনো প্রমাণ আছে কি না, তিনি বললেন, না। তাহলে কেন আমার রিমান্ড মঞ্জুর হইল, ওই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আমার প্রশ্ন। দুর্জয় আমার কাছে আপসনামা নিয়ে আসে। আমি সেখানে সই করিনি। আমি তার বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার একটি মামলা করেছিলাম। সেই প্রেক্ষিতে আমার কাছে আপসনামা নিয়ে আসে।
তাহরিমা জান্নাত সুরভী বলেন, ওই আপসনামায় লেখা ছিল আমি ওকে কিডন্যাপ করেছি। কিডন্যাপ করে গাজীপুরে নিয়ে আসছি, মারধর করেছি। এমনকী ওর বাইক এবং মোবাইল ফোন সবকিছু ছিনায় নিয়ে ওকে টাকা পয়সা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছি। কত টাকা লিখেছে ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু ওই মিডিয়াতে এসে বলেছে ওর থেকে ৫০ কোটি টাকা নিছে। ওর কাছে ৫০ কোটি টাকা আসলো কীভাবে?
তিনি বলেন, আমি কোন রাজনৈতিক দলের না। আমি একদম অরাজনৈতিক। আমি অরাজনৈতিকভাবেই সবসময় আন্দোলন করছি। কখনো আওয়ামী লীগ, এনসিপি, বিএনপি, জামায়াত, গণঅধিকার পরিষদ- এগুলা কোন কিছুতেই আমি ছিলাম না। আমি শুধুমাত্র অরাজনৈতিক থেকে আন্দোলন করেছি, সবসময় দেশের জন্য এতটুকু করার পরেও আমাকে ১১ দিন নির্যাতন করা হইছে।
তিনি আরও বলেন, এই মামলা থেকে শুধু জামিন দিলেই হবে না। আমাকে এই মামলা থেকে পুরোপুরি নিষ্পত্তি দিতে হবে। কারণ, এই মামলায় আমি আর থাকতে চাচ্ছি না। মামলাগুলা তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাক, এতটুকুই অনুরোধ।
সুরভী বলেন, আমাদের কণ্ঠরোধ করে রাখা হচ্ছে কেন? কে এই উপর লেভেলের লোক? যার জন্য আমাকে আমার ফ্যামিলির সাথে সাক্ষাৎ বন্ধ করে টর্চার করা হইছে। এই উপর লেভেলটা কে? যাকে তদন্ত রিপোর্ট ছাড়া কিভাবে মামলা লেখানো হয়? তদন্ত রিপোর্ট ছাড়া রিমান্ড দেওয়া হয়? ১৭ বছর হয়েও কেন রিমান্ড খাইতে হয়? আমাকে জেলে কীভাবে টর্চার করা হয়েছিল, কে করছিল, সবকিছুই বলবো সুস্থ হয়ে।
এর আগে, গত ২৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গীতে যৌথবাহিনীর অভিযানে সুরভীকে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। টঙ্গী এলাকার সেলিম মিয়ার মেয়ে সুরভী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ও জুলাইযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত। গ্রেফতারের সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। গ্রেফতারের পর ঘুমন্ত অবস্থা থেকে পুলিশ সুরভীকে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।