Friday 09 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ, গ্রেফতার ২

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৫৭ | আপডেট: ৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:১৩

খুলশী থানা, চট্টগ্রাম।

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরীতে এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের পর তার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। পরিবারের অভিযোগ, ১০ বছর বয়সী শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়টি সঠিক কী না জানা যাবে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে নগরীর লালখান বাজার এলাকা থেকে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে র‍্যাব-৭এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফফর হোসেন জানিয়েছেন।

গ্রেফতার দুইজন হলেন- প্রদীপ লাল ঘোষ (৫২) ও অজয় সিংহ (২৫)। তারা নগরীর লালখান বাজার এলাকার বাসিন্দা।

বিজ্ঞাপন

গত ৩ জানুয়ারি নগরীর খুলশী থানার লালখান বাজারের টাংকির পাহাড় এলাকার এক বাসা থেকে শ্রাবন্তী ঘোষ (১০) নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। শ্রাবন্তী স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়।

বাবা তপন ঘোষ সারাবাংলাকে জানান, তিনি সিইপিজেডে এবং তার স্ত্রী রোজি ঘোষ ওয়াসার মোড় এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত আছেন। যাতায়াতের সুবিধার জন্য সিইপিজেড এলাকায় একটি ব্যাচেলর বাসায় তিনি ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকেন।

আর রোজি ঘোষ একমাত্র মেয়েকে নিয়ে লালখান বাজার টাংকির পাহাড় এলাকায় একটি সেমিপাকা কলোনিতে ভাড়া বাসায় থাকেন। ওই কলোনির মালিক গ্রেফতার প্রদীপ লাল ঘোষ এবং তাদের পাশের বাসার ভাড়াটিয়া অজয় সিংহ।

র‌্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, লালখান বাজারে রোজীদের বাসার কাছেই তার শ্বশুর-শাশুড়ি অর্থাৎ শ্রাবন্তীর দাদুর বাসা। মা কর্মস্থলে থাকার কারণে শ্রাবন্তী প্রায়ই বাসায় একা থাকতেন। এজন্য প্রায়ই সে নিজেদের বাসা থেকে দাদুর বাসায় আসা-যাওয়া করতেন। ঘটনার দিন ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যার দিকে দাদুর বাসায় গিয়ে রাত ১১টার দিকে নিজের বাসায় ফিরে আসেন। তখনও তার মা কারখানা থেকে ফিরেননি। কাউকে কিছু না জানিয়ে চলে আসায় রাত পৌনে ১২টার দিকে শ্রাবন্তীর দাদু তাকে খুঁজতে গিয়ে দেখেন, দরজা খোলা বাসার ভেতর সে সিলিংয়ের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলে আছেন।

পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে রাতেই লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে। এরপর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে সেটি নগরীর বলুয়ার দিঘীর পাড় শ্মশানে দাহ করা হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ একটি অপমৃত্যু মামলাও দায়ের করে।

তবে বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে, এমন অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সৌরভ প্রিয় পাল ও তার অনুসারী নেতাকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হন। শিশুটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে গত (বুধবার) রাতে মা-বাবাকে নিয়ে সৌরভ যান খুলশী থানায়। রাতেই শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার দুইজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন মা রোজি ঘোষ।

সৌরভ প্রিয় পাল সারাবাংলাকে বলেন, ‘পাঁচদিন আগে শিশুটির অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তার মা-বাবা কোনোভাবেই তাদের মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন এটা মানতে নারাজ। তাদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে বাড়ির মালিকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। কিন্তু ভয় কিংবা সামাজিকভাবে হেনস্থা হওয়ার আশঙ্কায় তারা এ বিষয়ে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বিষয়টি জানতে পারার পর আমি তাদের সঙ্গে দেখা করে মামলা করার জন্য থানায় নিয়ে যাই। মামলা দায়েরের পর র‌্যাব দুজনকে গ্রেফতার করেছে। আমরা চাই, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষী যারা, তাদের কঠোর শাস্তি হোক।’

প্রদীপ ও অজয়কে সন্দেহ করার কারণ জানতে চাইলে তপন ঘোষ সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। তার পা মাটির সঙ্গে লাগানো ছিল। এভাবে আত্মহত্যা করা যায় না। তাকে হত্যা করা হয়েছে। বাড়ির মালিক তপন সবসময় মদ্যপ অবস্থায় থাকতো। আমাদের পাশে অজয়ের বাসায় আসতো, আমাদের বাসার সামনেও লোকজন নিয়ে আড্ডা দিত, যদিও তার বাসা আরও দূরে। আমার মেয়েসহ ছোট ছোট মেয়েদের তারা নানাভাবে উত্যক্ত করতো। এজন্য আমাদের সন্দেহ প্রদীপ ও অজয়কে।’

খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহেদুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এছাড়া তদন্তে যদি কারও সম্পৃক্ততা উঠে আসে, সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’