ঢাকা: রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্টে ভেজাল অবৈধ মদ উৎপাদন ও মজুদ এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বোতলে ওই ভেজাল মদ ভরে সিল লাগিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছিল। এই ঘটনায় ভেজাল মদ তৈরির পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো ও সরঞ্জামসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও ভেজাল মদ তৈরির কেমিক্যাল উদ্ধারসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে (ডিএনসি) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিচালক (অপারেশনস) মো. বশির আহমেদ এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘বুধবার (৭ জানুয়ারি) বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ভবনের ভাড়াকৃত ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে ভেজাল মদ তৈরির পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো ও সরঞ্জামসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ মদ, ভেজাল মদ তৈরির কেমিক্যাল উদ্ধারসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।’
বশির আহমেদ বলেন, ‘আবাসিক ফ্ল্যাটটির একাধিক কক্ষকে ব্যবহার করা হচ্ছিল ভেজালমদ প্রস্তুত, বোতলজাত ও সংরক্ষণের জন্য। সেখানে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বোতলে ভেজাল মদ ভরে সিল লাগিয়ে বাজারজাত হচ্ছিল। অভিযানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ, বিয়ার, ওয়াইন, বিপুল পরিমাণ ভেজালমদ ও ভেজালমদের কেমিক্যাল, ভেজাল মদ তৈরির জন্য সংরক্ষিত তরল ওয়াশ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মদগুলো স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এবং এসব ভেজাল মদ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে সরবরাহের প্রস্তুতি ছিল।’
তিনি বলেন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জোয়ার সাহারা এলাকায় মদের মজুদ ও সরবরাহ সংক্রান্ত আলামত উদ্ধার করা হয়। বসুন্ধরার এই চক্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন তিনি। গ্রেফতার তিন আসামির বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা করা হয়েছে। তারা হলেন- রিপন হিউবার্ট গমেজ (৪৮), আবদুর রাজ্জাক (৪০) ও ডেনিস ডমিনিক পিরিছ (৩৭)।
তিনি আরও বলেন, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং কোথায় কোথায় ভেজাল মদ সরবরাহ করা হতো, সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।