ঠাকুরগাঁও: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনৈতিক পারদ এখন ঊর্ধ্বমুখী। দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে ফেরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। এদিকে, ‘তারেক হাওয়ায়’ কার্যত মুষড়ে পড়েছে স্থানীয় জামায়াত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির এই আয়োজন জামায়াতের ভোট ব্যাংকে বড়সড় ফাটল ধরাতে পারে।
আগামী ১৩ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও পৌরশহরের বড় মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় ‘গণদোয়া’ বলা হলেও, আদতে এটি যে তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বিশাল রাজনৈতিক শক্তি মহড়া, তা স্পষ্ট। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের কড়া নজরদারিতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বিশালাকার মঞ্চ তৈরির কাজ। দলের শীর্ষ নেতাদের আগমনকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে ঘাঁটি গেড়েছেন খোদ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার নিজ জেলা হওয়ার কারণে এই সফরকে ‘প্রেস্টিজ ফাইট’ হিসেবে দেখছে বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
দিনরাত চলছে মিছিল ও স্লোগান। দীর্ঘদিন ঝিমিয়ে থাকার পর এমন চনমনে মেজাজে দেখা যায়নি বিএনপি কর্মীদের। দলের স্থানীয় জেলা নেতা ওবায়দুল্লাহ হক মাসুদ বলেন, ‘তারেক রহমান আমাদের প্রাণশক্তি। তার উপস্থিতিই প্রমাণ করে দেবে ঠাকুরগাঁও কার দুর্গ।’
মঞ্চ কমিটির আহবায়ক আবু তাহের দুলাল বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার দোয়া মাহফিলে যোগদানের জন্য আসছেন তারেক রহমান। তিনি জনসাধারণের সঙ্গে দেখা করারও জন্য আসছেন তিনি। এজন্য বিএনপির নেতাকর্মীরা ব্যাপক আনন্দিত, উৎফুল্লহ।
অন্যদিকে, বিএনপির এই জোয়ারে যখন শহর ভাসছে, ঠিক তখনই উলটো সুর জামায়াতে ইসলামীর। বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারী) ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন ও জেলা আমির বেলাল উদ্দিন প্রধান সরাসরি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানার কাছে মৌখিক অভিযোগ দায়ের করেছেন।
তাদের অভিযোগ নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত কর্মকর্তাদের নিয়োগে বিএনপি ঘেঁষা কর্মকর্তাদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতে প্রশাসন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দলটি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, তারেক রহমানের এই সফরে বিএনপির ভোট একমুখী হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে, ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে জামায়াতের জমি ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত তাদের নির্বাচনি লড়াইয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। সব মিলিয়ে উত্তরের এই শান্ত জেলায় এখন বারুদের গন্ধ। ১৩ জানুয়ারির ‘গণদোয়া’ অনুষ্ঠান শেষ পর্যন্ত কোনো পথে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিকরা।
এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ও ইরশাদ ফারজানার সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।