ঢাকা: ২০২৫ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ও প্রাণহানি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বছরজুড়ে ৭ হাজার ৫৮৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৭ হাজার ৩৫৯ জন এবং আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৪৭৬ জন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
সংগঠনটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ ২০২৫ সালের সড়ক দুর্ঘটনার বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ ও পর্যালোচনা করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে ৩ হাজার ২৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৬৭১ জন। যা মোট প্রাণহানির ৩৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার প্রায় ৪০ শতাংশ। নিহতদের বড় অংশই ১৪ থেকে ৪৫ বছর বয়সী তরুণ।
ড. মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দেশে মোট মোটরযানের ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল। কিন্তু গণপরিবহন দুর্বল হওয়ায় মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই বাহন ব্যবহার করছে।’
ঢাকা মহানগরে ৪০৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২১৯ জন। এর মধ্যে ৪১ শতাংশের বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে রাতে। বাইপাস সড়ক না থাকায় রাতের বেলায় ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলকে দুর্ঘটনার বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৫৬৪ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২১ দশমিক ২৫ শতাংশ। একই সময়ে এক হাজার ৮ জন শিশু সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ফুটওভার ব্রিজের অভাব, অতিরিক্ত গতি, সড়ক ব্যবহারে অসচেতনতা এবং বসতবাড়ি ঘেঁষা সড়কে বেপরোয়া যান চলাচল পথচারী ও শিশু মৃত্যুর প্রধান কারণ।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মানব সম্পদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। যা প্রকৃত হিসাবে আরও বেশি হতে পারে। এই ক্ষতির পরিমাণ দেশের জিডিপির ১ দশমিক ৫ শতাংশেরও বেশি।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনা দুর্ঘটনা নয়, এগুলো কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড। কর্তৃপক্ষের অবহেলা, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতার অভাবের কারণেই এসব প্রাণহানি ঘটছে।’
সংবাদ সম্মেলনে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২১ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—
- জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন
- সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন
- মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার
- চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ
- মোটরসাইকেলের গতি নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার
- রাজধানীতে আধুনিক বাস সার্ভিস চালু
- দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ট্রাস্ট ফান্ড গঠন