চট্টগ্রাম ব্যুরো: চব্বিশের জুলাইয়ে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের বিরোধিতার অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগপন্থী এক শিক্ষককে ধাওয়ার পাশাপাশি লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে সেসময় আন্দোলন দমনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগও আছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার শিকার হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর।
জানা গেছে, শনিবার অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষায় তিনি হল পরীক্ষকের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। দায়িত্ব পালনের জন্য ক্যাম্পাসে আসার পর একদল শিক্ষার্থী তাকে দেখতে পেয়ে সামনে গিয়ে দাঁড়ান। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি আইন বিভাগের সামনের পথ এড়িয়ে পেছনের একটি রাস্তা দিয়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে শিক্ষার্থীরা দৌড়ে গিয়ে তাকে ধরে ফেলেন।
একপর্যায়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে একটি রিকশায় তুলে নিতেও দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে। এসময় ওই শিক্ষক আতঙ্কিত অবস্থায় কান্নাজড়িত কন্ঠে চেঁচামেচি করছিলেন। তাকে প্রক্টরের কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের সময় হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভ প্রকাশ্যে আন্দোলনের বিরোধিতা করেন এবং সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন দেন। আওয়ামী লীগের আমলে তিনি ফ্যাসিবাদী শক্তির সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন।
এসব অভিযোগে ওই শিক্ষক বর্তমানে তিনটি পৃথক তদন্তের মুখোমুখি। তদন্ত চলমান থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের একটি চিঠির ভিত্তিতে তিনি ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্বে ছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে চাকসুর প্রতিনিধিরা তাকে আটকের উদ্যোগ নেন।
জানতে চাইলে চাকসুর আইন বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদ বলেন, ‘হাসান রোমান শুভর বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতা ও হত্যাকাণ্ডের সমর্থনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলে সহকারী প্রক্টর থাকাকালে তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে মামলা করেছিলেন। এছাড়া ছাত্রলীগকে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা এবং বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডে দিকনির্দেশনা দিতেন।’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ক্ষার্থীরা সাবেক সহকারী প্রক্টর হাসান রোমান শুভকে আটক করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে এসেছে। তার সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, তার বিরুদ্ধে মব করা হবে— এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। বর্তমানে তিনি প্রক্টর অফিসেই নিরাপদে আছেন।’
তবে এ বিষয়ে আটক হওয়া শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভ’র কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।